মাছে ফরমালিন ব্যবহারের ভয়াবহতা ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা

 

মোঃ আবুল কালাম আজাদ

ফরমালিন কী কী ক্ষতি করে?

             ফরমালিন মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়

             স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে

             কৌলিতাত্তি¡ক গুনাগুণের বৈকল্য সাধন করে (এবহড়ঃড়ীরপরঃু)

             পরিপাকে তীব্র অম্লীয় প্রভাব ফেলে

             রক্ত সংবহনতন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বিনষ্ট করে দেয়

             তীব্র রেচন জনিত (বৃক্ক তথা কিডনিতে) সমস্যা সৃষ্টি করে

             স্বাভাবিক স্নায়ুবিক সংবেদনশীলতা নষ্ট করে

             ক্যান্সার সৃষ্টিতে উদ্দীপক এজেন্ট হিসাবে কাজ করে

             পৃথিবীর সমস্ত রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী এজেন্সি ফরমালিনকে কারসিনোজেনিক হিসাবে শ্রেণিভুক্ত করেছে। ১৯৮৭ সালে টঝ ঊহারৎড়হসবহঃধষ চৎড়ঃবপঃরড়হ অমবহপু (ঊচঅ) ফরমালডিহাইডের উচ্চ মাত্রায় অথবা দীর্ঘস্থায়ী বীঢ়ড়ংঁৎব-কে ঢ়ৎড়নধনষব যঁসধহ পধৎপরহড়মবহ হিসাবে শ্রেণীবিন্যাস করেছে। ১৯৯৫ সালে ওহঃবৎহধঃরড়হধষ অমবহপু ভড়ৎ জবংবধৎপয ড়হ ঈধহপবৎ (ওঅজঈ) জানিয়েছে যে ফরমালডিহাইড একটি ‘চৎড়নধনষব ঐঁসধহ ঈধৎপরহড়মবহ’।

             এনাটমির ছাত্র যারা ফর্মালিনে সংরক্ষিত মৃত দেহ ডিসেকশনের কাজ করেন (অর্থাৎ ০.৫-১.০ পিপিএম ফরমালডিহাইড নিয়ে সপ্তাহে ১ দিন ৩ ঘণ্টা কাজ করেন) এমন ছাত্রদের ১০ সপ্তাহ কাজ করার পর তাদের মধ্যে যে সমস্ত উপসর্গ দেখা গিয়েছে তা হল- নাকের প্রদাহ, শ্বাস কষ্ট এবং চর্ম প্রদাহ (ংশরহ রৎরঃধঃরড়হ) ইত্যাদি। দীর্ঘ মেয়াদে ফরমালডিহাইডের সংস্পর্শে কাজ করলে রক্তের লিম্পোসাইট পরিবর্তন, নাসিকা টিস্যুতে মিউটেটিভ প্রভাব ইত্যাদি ঘটতে পারে।

ফরমালিন কিভাবে ক্ষতি করে?

সাধারণত ফরমালিনযুক্ত মাছ বা ফলম‚ল খেলে-

             মাথা ব্যথাসহ শ্বাসকষ্ট

             ডাইরিয়া, পেটব্যথা, বমি, চর্মরোগ

             অজ্ঞান ও অচেতন করে ফেলা

             কিডনির ক্ষতি ও অকালমৃত্যু এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে

             ফরমালিন মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণের কারণে মানুষের পরিপাকতন্ত্রের নানাবিধ জটিলতা বা গেস্ট্রো-ইন্টেস্টাইনাল ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিলতায় ভুগতে পারে বলে ধারণা করা হয়

শ্বাসকালে ফরমালিনযুক্ত (ফরমালডিহাইড গ্যাস) বায়ু গ্রহণের ফলে-

             হাঁচি, কাশি, কণ্ঠনালীতে অম্লীয় অনুভ‚তি

             শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রæত কম হওয়া ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া

             পালমোনারী ইডেমা (ফুসফুসে তরল পদার্থ জমে স্ফীত হওয়া, বুকে ব্যথা ও শ্বাস নেয়ার হার কমা) হতে পারে।

             সাধারণত যারা ফরমালিন নিয়ে কাজ করেন তাদের নাকের প্রদাহ, শ্বাস কষ্ট এবং চর্ম প্রদাহ দেখা দেয়।

             গর্ভবতী মহিলাদের ফরমালিন নিয়ে কাজ করা সম্প‚র্ণ নিষিদ্ধ। নিতান্তই যদি পেশাজনিত কারণে কাজ করতে হয় তবে ঋড়ৎসধষফবযুফব জবংঢ়রৎধঃড়ৎ ব্যবহার করে কাজ করার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ভ্র‚ণের অস্বাভাবিকতা, গর্ভপাত, গর্ভস্রাব, প্রজননক্ষমতা হ্রাস এবং প্রসবজনিত অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয় বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উলে­খ করা হয়েছে।

ত্বকের মাধ্যমে এটি শরীরে প্রবেশ করলে-

             ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি পায়

             ক্ষত ও জ্বালা পোড়ার অনুভ‚তি সৃষ্টি

             এমনকি ত্বক সাদা হয়ে যাওয়াও সম্ভব

দীর্ঘকাল ফর্মালিনের সংস্পর্শে থাকায়-

             ত্বক পুড়ে যাওয়া

             ত্বকে অনুভ‚তিহীনতা

             ত্বক শক্ত হয়ে যাওয়া

             ফোস্কার ন্যায় দাগ হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণিত

             শিল্প শ্রমিকদের উপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে, ফরমালডিহাইডের সংস্পর্শে যারা প্রায়শ কাজ করেন তাদের ন্যাজাল ক্যান্সার, ন্যাজোফেরেঞ্জিয়াল ক্যান্সার ও লিউকেমিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশী। ঘধঃরড়হধষ ঈধহপবৎ ওহংঃরঃঁঃব, টঝঅ এর একাধিক গবেষণায় প্রতীয়মান হয় যে, এনাটমিস্ট এবং অ্যাম্বালমার (যারা মৃতদেহ সংরক্ষণের কাজ করে) পেশার যারা ফরমালিন নিয়ে কাজ করেন তারা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় লিউকেমিয়া এবং ব্রেন ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকি মধ্যে রয়েছেন।

চোখে সামান্য ফরমালিন গ্যাসের সংস্পর্শে এলেও যা হতে পারে-

             চোখে জ্বালা পোড়া সৃষ্টি

             ঝাপসা দৃষ্টি

             দৃষ্টিহীনতা

             আর সরাসরি চোখে ফরমালিন লাগলে চোখের স্থায়ী অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে

বিভিন্ন মাত্রায় ফর্মালিনের ক্ষতিকর প্রভাবঃ জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর যৌগের মধ্যে ফরমালিন একটি। স্বল্প মেয়াদে উচ্চ মাত্রার অথবা দীর্ঘ মেয়াদে নিম্ন মাত্রার ফরমালিন মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণের কারণেও মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। যেমন-

ফরমালিনযুক্ত ও ফরমালিনমুক্ত মাছ চেনার সহজ উপায় হল-

ফরমালিনযুক্ত মাছ

             মাছের চক্ষুগোলক ফ্যাকাশে ও ভিতরের দিকে ঢুকানো

             শরীরে স্বাভাবিক পিচ্ছিলতা সৃষ্টিকারি মিউকাস থাকে না

             ফুলকা কালচে বর্ণের

             দেহ বেশ শুষ্ক হয়

             মাংসপেশী ও আঁশটে শক্ত এবং রবার সদৃশ

             স্বাভাবিক মেছো গন্ধ থাকে না

             মাছে মাছি পড়ে না

             মাছ সহজে পঁচে না

ফরমালিনমুক্ত মাছ

             মাছের চক্ষুগোলক স্বাভাবিক ও লালচে বর্ণের

             শরীরে স্বাভাবিক পিচ্ছিলতা সৃষ্টিকারি মিউকাস থাকে

             ফুলকা লালচে বর্ণের

             দেহ শুষ্ক হয় না, আর্দ্র থাকে

             মাংসপেশী ও আঁশটে স্বাভাবিক মাত্রায় নরম

             স্বাভাবিক মেছো গন্ধ থাকে

             মাছে মাছি পড়ে

             মাছ সময়ের ব্যবধানে পঁচে যায়

ফর্মালিনের ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়:

জনসচেতনতা সৃষ্টিঃ আমাদের স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে হলে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ফরমালডিহাইড বা ফর্মালিনের অপরিণামদর্শী ব্যবহার রোধ করতে হবে এবং এজন্য ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির কোন বিকল্প নাই। ফরমালিন বিষয়ে জনগণের বিদ্যমান অচেতনতা, খাদ্যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্যে এর বিরূপ প্রভাব সম্বন্ধে সবার অজ্ঞতাকে পুঁজি করে আপাতদৃষ্টিতে কেহ কেহ লাভবান হলেও গোটা জাতি এক ভয়াবহ বিপদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সবার মধ্যে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তা গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ধ্বস নামিয়ে দিতে পারে। কেননা সুস্থ জাতি ছাড়া কাঙ্খিত উন্নয়ন সুদূর পরাহত।

আর তাই এখনি সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফর্মালিনের ক্ষতিকর প্রভাব জানিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা, এ সংক্রান্ত পোষ্টার, লিফলেট তৈরি ও তা ব্যাপকভাবে বিতরণ করা, স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সভা-সেমিনার করা, হাট-বাজার ও স্কুল-কলেজে প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা, বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি ও গণমাধ্যমে তা প্রচার করা, জনবহুল এলাকা ও মৎস্য বাজারে বিলবোর্ড স্থাপন করা ইত্যাদি।

খাদ্য দ্রব্যের উপাদানসম‚হ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণঃ আসলে সাধারণ মানুষ জানে না, জানতেই পারেনা এবং জানতে চায়ও না কি ধরণের উপাদানে তৈরি খাদ্য তারা খাচ্ছে বা তাদের কোমলমতি শিশুদের খাওয়াচ্ছে এবং তাতে কোন অপকারী পদার্থের মিশ্রণ আছে কি না? তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষার মত জাতীয় স্বার্থেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানসম‚হ নিয়মিত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণে রাখা একান্ত প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা খুবই দরকার।

জনগণের ও জনপ্রতিনিধিগণের আন্তরিক সহায়তা নিয়ে আইনের মাধ্যমে ফরমালিন অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিম‚লক ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। আমাদের দেশের প্রচলিত ভেজাল বিরোধী আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফরমালিন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে। তাছাড়াও মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ১৯৯৭ (২০০৮ সালে সংশোধিত) এর বিধি-৫-এর উপবিধি-৯-এ আছে কোন ব্যক্তি খাদ্য উপাদানে ব্যবহার উপযোগী নয় এমন কোন জিনিসপত্র, রাসায়নিক পদার্থ বা সরঞ্জামাদি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বিক্রয়, মজুদ বা বাজারজাতকরণ কাজে ব্যবহার করিবেন না। আবার বিধি-৫-এর উপ-বিধি-১০-এ আছে যদি কোন ব্যক্তি উপ-বিধি-৯ এর বিধান লঙ্ঘন করে, তা হইলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা পরিদর্শক উক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০/- টাকা এবং সর্বনিম্ন ১০,০০০/- টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবেন বা তাহার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করিতে পারিবেন।

ফরমালিন ক্রয়-বিক্রয়ে শর্তারোপঃ ফরমালিন বা অন্যান্য প্রিজারভেটিভের অপরিণামদর্শী ব্যবহার নানাবিধ ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করছে। মানুষ বৈশ্বিক দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই ক্রান্তিকালে টিকে থাকতে সহজে অধিক মুনাফা লাভের আশায় তাদের পণ্যকে সহজে সংরক্ষণ করে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করতে আগ্রহী। আর এ ক্ষেত্রে নির্বিচারে সস্তায়, সহজলভ্য ফরমালিন জাতীয় যৌগ খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফরমালিন ক্রয়-বিক্রয়ে শর্তারোপ, উচ্চম‚ল্য ও দুস্প্রাপ্যতা সৃষ্টি এ সমস্যা রোধে সহায়ক হতে পারে।

মাছ সংরক্ষণে আরও বরফকল ও হিমঘর নির্মাণঃ মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে অনেকে এ ব্যবসায় এগিয়ে এসেছে। কিন্তু অব্যহতভাবে বাড়তে থাকা উচ্চ খাদ্যমূল্যে উৎপাদিত এ মাছ যেহেতু দ্রæত পচনশীল, একে পর্যাপ্ত বরফে বা হিমাগারে সংরক্ষণ করা যেহেতু ব্যয়বহুল এবং যেহেতু দেশব্যাপী মাছ সংরক্ষণের মত পর্যাপ্ত হিমঘর নাই, সেহেতু মাছ সংরক্ষণে সহজলভ্য ফরমালিন জাতীয় যৌগ ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকে ফর্মালিনের ভয়াবহতা জানলেও জনস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে কেবল লাভের জন্য তা ব্যবহার করে সস্তায় মাছ সংরক্ষণ ও বিপণন করছেন, আর কেহ কেহ না জেনে সস্তায় পাওয়া এ মাছ কিনছেন। কাজেই দেশব্যাপী মাছ সংরক্ষণের মত পর্যাপ্ত বরফকল ও হিমঘর নির্মাণ করা প্রয়োজন। আর তা সম্ভব না হলে বিভিন্ন বন্দর ও বাজার এলাকায় এবং মাছ উৎপাদনে শীর্ষে থাকা জেলাগুলিতে অন্তত পর্যাপ্ত হিমাগার ও বরফকল থাকা দরকার।

সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণঃ জাতির জন্য সর্বনাশা এ ফরমালিন ব্যবহার রুখতে দরকার সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ। বিশেষকরে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ দ্রæত পরিবর্তন আনায় কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি প্রশিক্ষণে ফর্মালিনের অপব্যবহার ও এর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে একটি অধিবেশন রাখা যেতে পারে। সর্বোপরি সরকারকে দেখতে হবে জনগণ নিরাপদ খাদ্যদ্রব্য খাচ্ছেন কি না আর জনগণকেও সজাগ ও সর্তক হয়ে জেনে নিতে হবে তারা কি কিনে খাচ্ছেন?

মাছে ফরমালিনের উপস্থিতি সনাক্তকরণ

অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা যে সমস্ত পচনশীল খাদ্যের বাহ্যিক চেহারাতে টাটকা ভাব ও সংরক্ষণ করার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে তার মধ্যে মাছ অন্যতম। মনে রাখতে হবে, ফরমালিন মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রণ। মাছে একবার ফরমালিন মিশ্রিত করলে উক্ত মাছ থেকে সম্প‚র্ন ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব নয়। দেশে মাছ বাজারজাত করার সময় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক মাছে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

মাছে ফরমালিন এর উপস্থিতি নির্ধারণের পরীক্ষণ পদ্ধতিঃ টাইট্রেশন পদ্ধতি (ফরমালিন টেষ্ট কিট ব্যবহারের মাধ্যমে)

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পাত্রসম‚হ –

             ফরমালিন টেষ্ট কিট

             ট্রে বা বালতি

             কাঁচের জার/বিকার – ৫০০ মি. লি.

             মাপচোঙ/মিজারিং সিলিন্ডার – ১০/৫০ মি. লি.

             পিপেট – ০১ মি.লি. ও পিপেট ফিলার

             ওয়াশ বোতল

             ডিসটিল্ড ওয়াটার – ২০ মি.লি.

পরীক্ষণ পদ্ধতি

নমুনা সংগ্রহঃ

             নমুনা মাছটিকে ট্রে বা বালতিতে নিয়ে ওয়াশ বোতল দ্বারা মাছের সারা গায়ে ডিসটিল্ড ওয়াটার দিয়ে আস্তে স্প্রে করতে হবে,

             ট্রে বা বালতিতে মাছের শরীর ধোয়া পানি নমুনা (৫ মি:লি:) হিসাবে পরীক্ষণের জন্য সংগ্রহ করতে হবে।

             পরীক্ষণ পদ্ধতিঃ

             মাপচোঙ/মিজারিং সিলিন্ডার দ্বারা ৫ মি.লি. নমুনা (মাছ ধোয়া পানি) একটি কাচের পাত্রে/টেষ্ট টিউবে নিতে হবে,

             টেস্ট কিট এর ১ নং বোতল (রিএজেন্ট -১) থেকে ১ মি.লি. দ্রবণ ৫ মি.লি. মাছ ধোয়া পানির সাথে মিশাতে হবে,

             টেস্ট কিট এর ২ নং বোতল (রিএজেন্ট -২) থেকে ১ মি.লি. দ্রবণ রিএজেন্ট-১ মিশ্রিত মাছ ধোয়া পানির সাথে অনুরূপভাবে মিশাতে হবে,

             উক্ত মিশ্রণ ভালভাবে ঝাঁকাতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মিশ্রণ হালকা সবুজ রং ধারণ করবে;

             টেষ্ট কিট এর ৩ নং বোতল (রিএজেন্ট -৩) থেকে ১ মি.লি. দ্রবণ উক্ত মিশ্রণের সাথে মিশাতে হবে এবং সাবধানতার সাথে ঝাঁকাতে হবে; এবার ২/৩     মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

             যদি মিশ্রিত দ্রবণ হালকা সবুজ রং থেকে গোলাপী বা লাল রং এ পরিবর্তন হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, উক্ত মাছে ফরমালিনের উপস্থিতি রয়েছে;

             যদি রং অপরিবর্তিত থাকে বা রংহীন হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে, উক্ত মাছে ফরমালিন অনুপস্থিত।

ফরমালিন পরীক্ষণের ক্রম প্রবাহঃ

পদ্ধতিগতভাবে ৫ মি.লি. নমুনা সংগ্রহ করতে হবে

             সাবধানে টেস্ট কিট এর রিএজেন্ট -১, ২ ও ৩ পর্যায়ক্রমে নমুনার সংগে মিশাতে হবে (প্রতিটি ১মি.লি. করে)।

             মিশ্রণকে ভালভাবে ঝাঁকাতে হবে।

             এবার ২/৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

গোলাপী/লাল রং ।

             রং অপরিবর্তনীয় বা রংহীন

             ফরমালিন উপস্থিত।

             ফরমালিন অনুপস্থিত

মাছে ফরমালিন এর উপস্থিতি নির্ধারণের পরীক্ষণ পদ্ধতিঃ ডিজিটাল (সেন্সর) পদ্ধতি

(ফরমালডিহাইড মিটার ব্যবহারের মাধ্যমে)

মাছে ফরমালিনের উপস্থিতি নির্ধারণের জন্য ফরমালডিহাইড মিটার একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল যন্ত্র, যা সেন্সর পদ্ধতিতে কাজ করে।

পরিশেষে বলা যায় যে, মাছে ফরমালিন মেশানো একধরণের প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। তাই ফরমালিনমুক্ত মাছ পেতে হলে নিজে সচেতন হতে হবে এবং অপরকে সচেতন করতে হবে।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *