মুরগী পালনের কিছু সমস্যা ও তার সমাধান

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

171648poultry1

মানুষের সকল চাহিদার মধ্যে খাদ্যের চাহিদা অনেক গুরুত্বপুর্ণ। আর খাদ্য শুধু খাদ্য হলেই হয়না, তা হতে হয় পুষ্টিমাণ সমৃদ্ধ। দেহের প্রয়োজনীয় ছয়টা উপাদানের মধ্যে আমিষ উল্লেখ্যযোগ্য। মানুষের আমিষ দেহের সব মেটাবলিজম ঠিকমত রাখে, তাই আমিষের প্রয়োজনীয়তা মানব জীবনে অনস্বীকার্য। আর এই আমিষের এখন সিংহ ভাগই আসে পোল্ট্রি থেকে, দামে স্বল্পতা আর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণে সবার পছন্দের তালিকায় এখন স্থান পেয়েছে এই আমিষ।

বাংলাদেশের বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যে আমিষের চাহিদা পূরণে পোল্ট্রির ভুমিকা অপরিসিম। আর দেশে বর্তমানে দেশে পোলট্রির উৎপাদন বাড়ছে। বাড়ছে খামারীর সংখ্যা। আর মুরগী পালন  শুধু নিজের অর্থনৈতিক উন্নতিই নয় বরং দেশের জাতীয় উন্নতিরই  একটা অংশ। সেই পোল্ট্রি পালন লাভজনক করতে হলে মুরগীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানতে হবে। মুরগীর কিছু স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য আছে যার ফলে মুরগীর খামারে মুরগীর কাঙ্কিত উৎপাদন ব্যাহত হয়। লোকসান গুণতে হয় খামারীদের। এমন সমস্যা আর সমাধান নিয়ে আজ আমাদের আয়োজন।

এমন কিছু বদ অভ্যাস আছে যা খামারে দ্রুত ছড়িয়ে পরে এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়া ক্যানাবলিজম (ঠোকরানো) মুরগীর খুবই পরিচিতি এবং মারাত্ত্বক সমস্যা এটি। এই স্বভাবের মুরগীর বৈশিষ্ট্য হলো অপর মুরগীকে ঠোকরানো। দেহের বিভন্ন যায়গায় ঠোকরায়।

১। ভেন্ট পিকিং: মুরগীর বিশেষত লেয়ার মুরগীর খুবই মারাত্ত্বক বদঅভ্যাস। এটা মুরগীর ভেন্ট (ডিম দেয়ার ও পায়খানার রাস্তার উপরের স্থান)। এতে করে মুরগীর ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। মুরগীর খাদ্য গ্রহণ কমে যায়। মুরগী যদি একবার মাংসের স্বাদ পায়  তাহলে সে অন্য  সুস্থ্য মুরগীকে ও আক্রমণ করতে থাকে। আর  এই অভ্যাস খুবই তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে খমারের সব মুরগীর ভিতরে।

ভেন্ট পিকিং: এটা মূলত বড় মুরগীর ক্ষেত্রে বেশী দেখা যায় এবং লেয়ার মুরগীর বদভ্যাস। এটা মুরগীর পায়ুপথের নরম মাংশে আঘাত করে রক্ত গ্রহণ করে । এর ফলে মুরগীর রক্তক্ষরণ হয় এর মুরগীর উৎপাদন কমে যায়। অনেক সময় এর ফলে মুরগীর মৃত্যুও ঘটে থাকে। আর মুরগী যদি একবার রক্তের স্বাদ পায় তাহলে সে অন্য মুরগী কেউ ঠোকরাতে থাকে এবং এই অভ্যাসটা পুরো খামারে ছড়িয়ে পড়ে।

যে সমস্ত কারনে মুরগীর ক্যানাবলিজম হয় তা নিম্নে দেয়া হলোঃ

তার মধ্যে একটা অথবা একাধিক কারন থাকতে পারে।

১। মুরগীর ঘনত্ত্ব বৃদ্ধিঃ মুরগীকে তার প্রয়োজন মত জায়গা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে যদি তার জায়গার ঘাটতি হয় সেক্ষেত্রে এই বদঅভ্যাস শুরু হয়ে যেতে পারে। বাচ্চার জন্য নির্ধারিত জায়গা হলো

‘১/৪ স্কোয়ার ফিট প্রতি বাচ্চার জন্য প্রথম ২ সপ্তাহ ১/২ স্কোয়ার ফিট প্রতি মুরগীর বাচ্চার জন্য ৩-৮ সপ্তাহে ১ স্কোয়ার ফিট প্রতি মুরগীর জন্য ৮-১৬ সপ্তাহু ১৫ স্কোয়ার ফিট প্রতি মুরগীর জন্য ১৬ সপ্তাহের পর থেকে। এর কম হলে ক্যানাবলিজম দেখা যায়।

২। অতিরিক্ত তাপঃ যখন মুরগীর খামারে অসহ্য গরম দেখা যায় তখন মুরগীর মধ্যে ক্যানাবলিজম মারাত্ত্বক আকারে লক্ষ্য করা যায়। অতিরিক্ত তাপের ফলে মুরগীর বিপাক ক্রিয়া ভাল হয়না যার ফলে মুরগীর খাদ্যের প্রতি অনিহা দেয়া যায়। গরমে একে অপরের সাথে হিংসাত্ত্বক ভাব প্রদর্শন করে। যার ফলে এক মুরগী অন্য মুরগীকে ঠোকর মারতে থাকে।

৩। অপর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির পাত্রঃ মুরগীর জন্য প্রয়োজন সর্বদা পানির সরবরাহ রাখতে হয়। মুরগী তার প্রয়োজন মত পানি পান করতে থাকে । আর এজন্য পানির যথেষ্ট পাত্রের অভাব হলে মুরগীর মধ্যে হিংসাত্মক ভাব প্রকাশ পায়। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পানি ও খাদ্য গ্রহণ করে । আর এইসব অবস্থার জন্য মুরগীর মধ্যে ক্যানাবলিজমের প্রভাব বেড়ে যায়।

৩। তাপমাত্রাঃ মুরগীর জন্য তাপমাত্রা একটি গুরুত্তপূর্ণ বিষয়। তাপমাত্রার খুব কম বেশী হলে তা মুরগীর উৎপাদনে ব্যহিত হয়। কম বেশী হলে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন হয় এবং জৈবিক কার্যক্রমে বাধা প্রাপ্ত হয়। নানান জটিলতা সৃষ্টি হয়। মুরগীর জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ৬৫-৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এই তাপমাত্রায় মুরগীর বিপাকীয় হরমোন গুলো খুব ভালো কাজ করে। আর খুব বেশী তাপমাত্রা হলে ক্যানবলিজমেরও প্রকপ বেড়ে যায়। যায় ফলে মুরগীর কাঙ্কিত মান পাওয়া যায় না।

৪। মুরগীকে শুধুমাত্র দানাদার খাদ্য খাওয়ানোঃ  মুরগীর খাদ্যে পিলেট ও ম্যাস উভয়ের মিশ্রণ থাকা খুব জরুরী। শুধু দানাদার খাদ্য খাওয়ালে মুরগীর মধ্যে কিছু বদভ্যাস সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে ক্যানাবলিজম ও অন্যতম। মুরগীর দানাদার খাদ্য খেতে খেতে ঠোকরানো প্রভাব বেশী হতে থাকে। তাই পরিমিত দানাদার ও ম্যাস ফিড (গুড়া খাবার) খাওয়ানো উত্তম।

৫। খাঁচায় অবস্থান সংকটঃ খাঁচায় মুরগী পালন করা হলে নিয়ম মত মুরগীর জন্য স্থান প্রয়োজন। যার দিয়ে মুরগী সব প্রয়োজন ঠিকমত পূরণ হয়। আর খাঁচায় যদি মুরগী পালন কালে জায়গার ঘাটতি পরে তাহলে খাদ্যের ঘাটতির সাথে মুরগীর প্রতিযোগিতা স্বরূপ। একে অপরের সাথে মারামারি সহ ঠোকরানো শুরু করে। ফলে ক্যানাবলিজম এর প্রভাব বাড়তে থাকে।

৬। সময় মত সঠিক চিকিৎসার অভাব হলেঃ  মুরগী কোন জীবাণু বা কোন ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে তার সাথে সাথে চিকিৎসার প্রয়োজন। অন্তত তাকে আলাদাকরণ খুব প্রয়োজন।  আর এই চিকিৎসার যদি কোন ঘাটতি হয় এবং যদি দেরি হয়। তাহলে অন্য মুরগী সেই আক্রান্ত মুরগীকে নতুন করে ঠোকরানো শুরু করে। আর এই অবস্থায়  যদি কোনভাবে রক্তের স্বাদ পায় তাহলে সেই মুরগীর মধ্যে এই ঠোকরানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এবং এটা খুব অল্প সময়ের মধ্যে খামারের অন্য মুরগীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে । যা সহজে রোধ করা কষ্টকর।

৭। পরজীবী ও উকুনের আক্রমণঃ মুরগী খুব সংবেদনশীল পাখি। অল্পতেই যে বিরক্ত এমনকি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। গরম ঠান্ডার বেশী পার্থক্য হলেই  অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর মুরগীতে পরজীবীর আক্রমণ খুব সাধারণ একটা বিষয়। পরজীবির আক্রমণ হলে মুরগী খুব অস্বস্থি বোধ করে। এর ফলে আক্রমণের স্থান চুলকায়। যার কারনে সে নিজের ঠোট দিয়ে তা চুলকাতে চেষ্টা করে। এতে কাজ না হলে পরে অন্য কোন শক্ত জিনিসের সাথে নিজের শরীর লাগিয়ে দিয়ে সেই যন্ত্রনা হতে মুক্তির চেষ্ঠা করে। আর এইরকম অবস্থায় মুরগীর পালক উঠে যায় এমনকি মুরগীর রক্তক্ষরণ ও হতে পারে। যদি মুরগীর সেই ক্ষরিত রক্ত কোন মুরগী গ্রহণ করে তাহলে সেই মুরগীর মধ্যে রক্তের নেশা লেগে যায়। ফলশ্রুতিতে অন্য সুস্থ্য মুরগীকে আক্রমণ করে রক্ত শোষণ করতে শুরু করে। ফলে পরে একসময় তা ব্যাপক হারে মুরগীর খামারে ছড়িয়ে পড়ে।

৮। সময় মত ও সঠিক মাত্রায় মুরগীর ঠোঁক না কাটাঃ  মুরগীর ক্ষেত্রে ঠোঁক কেটে ছোট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত লেয়ার (ডিম পাড়া) মুরগীর ক্ষেত্রে। মুরগীর ঠোট বেশী বড় থাকলে সে যেমন খাদ্যের অপচয় করে ঠিক তেমনি তার বড় ঠোঁটের বড়ত্ব দেখিয়ে অন্য মুরগীকে আক্রমণ করে থাকে। আর এই ধরণের মুরগীর মধ্যে ডিম খাওয়ার প্রবণতাও বেশী থাকে। এর ফলে মুরগীর উৎপাদনের অনেকটা ক্ষতি হয়।

৯। দীর্ঘক্ষণ না খাইয়ে রাখাঃ মুরগীকে তার প্রয়োজনীয় খাবার সময় মতো খাবার দিতে হয়। দীর্ঘক্ষণ খাবার ছাড়া থাকলে মুরগীর ভিতরে ফেদার পিকিং এর সংক্রমক বেড়ে যায়। খাবারের তাগিদে তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে।

১০। ঘরে আলোর তীব্রতা বেশী হলেঃ  প্রয়োজন মত আলো মুরগীর জন্য খুবই জরুরী। এর চেয়ে মাত্রা বেশি হলে তা ক্ষতিতে রূপ নিতে থাকে।

১১। মুরগীর বংশগত স্বভাব হলেঃ  কিছু মুরগীর বংশগত ভাবে ফিদার পিকিং এ আক্রান্ত থাকে। যার ফলে খামারে তা রোধ করা সহজ হয়না।

১২। উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য এবং কম ফাইবার যুক্ত খাবারঃ  মুরগীর ক্ষেত্রে অতি উচ্চ শক্তির খাদ্য খাওয়ালেও এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। আর খাবারে ফাইবার কম থাকাটাও একটা অন্যতম কারন। যার ফলে ক্যানাবলিজমের স্বভাব বৃদ্ধি পায়।

ক্যানাবলিজম এর প্রতিকারঃ  কথায় আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম ক্যানাবলিজমের ক্ষেত্রেও একই কথা। একবার ক্যানাবলিজম হলে খুব সহজেই তা দূর করা কষ্টকর। তবে কিছু বিষয়ের উপর সজাগ দৃষ্টি দিলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যায় এর প্রভাবে ক্ষতির পরিমাণ কমানো। যে বিষয়ের উপর বিশেষ যতœ নিতে হবে তা হলোঃ

 

Pastured-free-range-egg-farming

১। সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবেঃ মুরগীকে তার প্রয়োজন মত সব পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি ঠিক রেখে সুন্দর ভাবে খাদ্য প্রস্তুত করতে হবে। কোন খাটতি যেন না থাকে সেক্ষত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভিটামিন ও মিনারেলের উপর সুনজর রাখতে হবে। আর মুরগী সাধারণত যে অর্গানিক উপাদান গুলো গ্রহণ করে থাকে তাই উৎপন্ন মাংস ও ডিমে সরবরাহ করে। তাই তার নিজের খাদ্যে যদি এগুলো উপাদানের ঘাটতি থাকে তাহলে সে দিনে দিনে ঘাটতিতে পড়ে যাবে। আর সব উপাদান ভাল মাত্রায় রাখলে এই ক্যানাবলিজম এর পরিমাণ অনেকাংশেই কমানো যায়।

২। পর্যাপ্ত পানির ও খাদ্যের পাত্রের সরবরাহ বাড়াতে হবেঃ মুরগীর সংখ্যা অনুষায়ী পাত্রের সংখ্যা নির্ধারণ করে তাতে পরিস্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। খাবারের জায়গা সবসময় পরিস্কার রাখার ব্যাবস্থা করতে হবে। খাবার পরিমাণ মুরগীর বয়স অনুযায়ী নির্ধারণ করে মুরগীর সংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

৩।  সময় মত ডিবেকিং (ঠোঁট ছোট) করাঃ বর্তমানে সহজ উপায়ে মুরগীর ক্যানাবলিজম দূর করার জন্য ডিবেকিংকেই একমাত্র প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।  বিশেষত লেয়ার মুরগীর ক্ষেত্রে ঠোঁটের এক তৃতীয়াংশ কেটে দিতে হবে। আর এই সময় মুরগীর রক্ত ক্ষরণ কমানোর জন্য প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে  দক্ষ লোক দ্বারা এইকাজ সম্পাদন করা। আইরন ব্রান্ড কে পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা। সতর্কতার সাথে মুরগীকে ধরা এবং মেশিনে স্থাপন করা। পরিমণ মত ঠোট কাটা বেশি না কাটা। ঠোট কাটার পর মুরগীর স্ট্রেস (ধকল) কমানো জন্য ভিটামিন সি অথবা লেবু পানি খাওয়ানো।

৪। পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করাঃ সব মুরগীকে তার নিজের সব কাজ সঠিক ভাবে করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা সরবরাহ করতে হবে।

৫। মুরগীর ভিড় কমানোঃ বেশি মুরগী একসাথে গাদাগাদি করে যেন না থাকে সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

৬। পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭। শেডের আলো সব জায়গায় যেন সমভাবে ব্যাপ্ত হয় সে দিকেও ভাল দৃষ্টি রাখতে হবে। লাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৪০ ওয়ার্টের উপর বাল্প ব্যবহার করা উচিত নয়।

৮। পোল্ট্রি খাবারে যথেষ্ট পরিমাণে মিথিওনিন সরবরাহ করতে হবে। মিথিওনিন এই ক্যানবলিজম প্রতিরোধ করতে বেশ সহায়তা করে

ডিম খাওয়াঃ

ডিম পাড়া মুরগীর আরো একটি মারাত্ব¡ক বদ অভ্যাস হলো নিজের ডিম নিজে খাওয়া। এটা প্রায়ই লেয়ার খামারে দেখা যায়। যার ফলে অনেক ডিম মুরগীর পেটে যায় পূণরায়। এর ফলে খামারি তার লাভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনা। যে সমস্ত কারণ আছে ডিম খাওয়ায় পিছনে-দীর্ঘক্ষণ ডিম ডিম পাড়া খাঁচায় রাখা। যদি কোন কারণে একবার ডিম ভেঙ্গে যায় এবং সেই ডিম যদি মুরগী খেয়ে স্বাদ পায় তাহলে পরে সে নিজের ভালো ডিম খেতে অভস্ত হয়ে যায়। ডিমের খোলস যদি খুব পাতলা হয়। রক্ত বা ভেজা ভেজা অবস্থার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।  মুরগীর খাবারে যদি প্রোটিনের অভাব হয়  সমাধানঃ

১। মুরগীকে পরিমিত সব উপাদান দেয়া প্রয়োজন।

২। যত দ্রুত সম্ভব মুরগীর ডিম অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে হবে। যেন মুরগী তার ডিম খাওয়ার সুযোগ না পায়।

৩। মুরগীর ঠোঁট কেটে দিতে হবে।

৪। মুরগীর খাবারে অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের সরবরাহ বাড়াতে হবে। ক্যালসিয়াম ডিমের সেল গঠনে বিশেষ ভুমিকা রাখে।

৫। মুরগীর ডিম পাড়ায় জায়গা তুলনামূলক ঠালু করে রাখতে হবে । যেন ডিম পাড়ার সাথে সাথে তা নিচে চলে আসে অথবা এমন স্থানে যেখানে মুরগীর ধরার সীমানার বাইরে।

৬। ডিম পাড়া স্থানে তুলনামূলক অন্ধকার হলেও এই অভ্যাসের প্রকোপ কমে।

৭। ডিম সংগ্রহের বিরতি কমাতে হবে।

ডিম লুকানোঃ  

যদিও ডিম লুকানো অভ্যাস মুলত বন্য মুরগীর ক্ষেত্রে বেশী প্রযোজ্য। তার পরেও জেনেটিক্যালি (বংশগত ভাবে) কিছু মুরগীর মধ্যে এই অভ্যাস চলে আসতে পারে । আর এই অভ্যাসে আক্রান্ত মুরগী তাদের ডিম কে মানুষের চক্ষুর অন্তরালে লুকিয়ে রাখে। সাধারণত যে সকল মুরগী খোলা ভাবে  পালন  করা হয়। তারা কোন জমিতে অথবা অন্ধকারে লুকিয়ে রাখে ।

সমাধানঃ

মুরগীর মুক্ত চলাচলে বাধা প্রদান।

ডিম পাড়ার স্থানটা খামারের ভিতরেই রাখতে হবে সাথে বালু বা খড় দিয়ে তা আরাম দায়ক করার ব্যবস্থা নিতে হবে।  মুরগীর মধ্যে যাদের এই স্বভাব দেখা দেবে তাদের আলাদা করে খাঁচায় পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পালক খাওয়াঃ

কোন কোন মুরগী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পালক খাওয়া শুরু করে। যদিও এই সমস্যা খুব একটা মারাত্বক নয়। তার পরেও এই অভ্যাস হতে আস্তে আস্তে ক্যানাবলিজমের দিকে ধাবিত হয়। আর একবার এই অভ্যাস হয়ে গেলে তা দূর করা খুব দূরহ হয়ে পড়ে।

এই অভ্যাস কমানোর অন্যতম উপায় হলো মুরগীর পরিবেশ ও বাসস্থান পরিস্কার পরিছন্ন রাখা। খাবার দেয়ার সময় দানাদার ও গুড়া খাবার একসাথে দেয়া।

কুচে হওয়াঃ

ডিম পাড়া মুরগীর খুবই পরিচিত সমস্যা এই কুচে লাগা। একটা নির্দিষ্ট সময় ডিম দেয়ার পর সেই মুরগী ডিম দেয়া বন্ধ করে দেয়। ব্রুডি হেন (কুচে মুরগী) ডিম দেয়না কিন্তু সে তার জায়গা ধরে রাখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ফলে অন্য মুরগীর ডিম পাড়ার যায়গা  দখল করে থাকে। কুচে মুরগী খুব আক্রমনাত্বক রূপ ধারণ করে এবং তাকে তার জায়গা হতে সরানোর সময় প্রচন্ড শক্ত করতে থাকে।

কুচে হওয়া মুরগীর সমাধানঃ

তাকে আলাদ করে রাখতে হবে। গ্রামের অল্প পরিসরের মুরগীর ক্ষেত্রে অনেক তাদের পানিতে কিছুক্ষণ চুবিয়ে রাখে তার কুচকে ভাব কমানোর জন্য এই পদ্ধতি গ্রামে ব্যবহার করে। ডিম পাড়া মুরগীর সামনে বেশি ডিম একসাথে না রাখা। তার ফলে কুচে হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কুচে লেগে বসে থাকা মুরগীকে বসে থাকতে না দিয়ে তাড়িয় নিয়ে বেড়ানো । এটাও খুব সাধারণ ফলপ্রসূ নিয়ম। উপযুক্ত খাবার সরবরাহ করা।

পিকাঃ

মুরগী অনেক সময় যা খাওয়ার উপযুক্ত নয় তাও খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। মুরগীর এই স্বভাবকে পিকা বলা হয়। যেমন লিটার, পালক ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এই অভ্যাস আধুনিক মুরগীর খামারে তেমন নাই বললেই চলে। অনেক সময় ফসফরাস এর ঘাটতি হলে, পরজীবীর আক্রমণ হলে এই অভ্যাস লক্ষ্য করা যায়।

সমাধানঃ ভাল খামার ব্যবস্থাপনা এবং ফসফরাসের পরিমাণ ঠিক রেখে খাবার প্রদান করলে এই সমস্যার সমাধান খুব দ্রুত হয় ।

গাছে উঠাঃ কিছু কিছু মুরগী তাদের জন্য বরাদ্ধ কৃত জায়গা বাদ দিয়ে গাছের উপর থাকে রাতের সময়। এটা গ্রামের মুরগীর ক্ষেত্রে বেশি দেখা  যায়। এই সমস্যাই আক্রান্ত মুরগী অনেক সময় বনবিড়াল ও শিয়ালের আক্রমণের শিকার হয়। ভয় পেয়ে অনেক মুরগী তাদের ডিম উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এইসব মুরগীর ডানা অল্প পরিমাণে কেটে দিতে হবে যেন উড়ে গাছে উঠতে না পারে । আর সজাগ দৃষ্টি রেখে তা প্রতিহত করা যায়।

দেশের উন্নতির জন্য সবার আগে নিজের উন্নতি প্রয়োজন। আর খামারীরা যদি নিজেরা লাভজনক ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন তাহলে সহজেই আমাদের সকল আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। আমিষের ঘাতটিজনত রোগ বালাই হতে নিজেকে এবং জাতিতে রক্ষা করার এক বিশেষ ব্যবস্থার অন্যতম উপায় হবে। তাই আসুন আমরা সচেতন ভাবে এই সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে উপযুক্ত সমাধানের ব্যবস্থা করি। তাহলেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লাভ করা সম্ভব হবে।

————————————–

লেখক: শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদ,

৪র্থ বর্ষ ,হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়,

দিনাজপুর। মোবাইল ০১৫২১৫৪৭৮৮২

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *