সারাদেশে নামকরা বরিশালের আমড়া

নাহিদ বিন রফিক

আমড়া, আমড়া, মিষ্টি আমড়া; বরিশালের আমড়া। নৌ, সড়ক কিংবা রেলপথে রওয়ানা হলে হকারদের এসব শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত চলে ওদের ডাকাডাকি। কিছুটা বিরক্ত লাগে। তবে কাঠিতে বসানো আমড়া নিয়ে যখন আশেপাশে ছুটাছুটি করে তখন চিবে জল রাখা দায়।  ফলগুলোকে ওরা বিশেষভাবে কেটে পরিবেশন করে। দেখতে দারুণ! এক বিশেষ আকর্ষণ। মনে হবে, এ যেন শিল্পীর কারুকাজ। লুফে নিতে ইচ্ছে করবে বার বার। সে আমড়া বাঙালির অতি প্রিয় একটি  ফলের নাম। টক-মিষ্টি মিশ্রণে ভিন্ন এক স্বাদ। কচি অবস্থায় টক। পরিপক্ক হলে খেতে বেশ লাগে। পাকা ফল খুবই মিষ্টি। আমড়ার সিংহভাগ কাঁচা খাওয়া হলেও ভর্তা, আচার, চাটনি আর পরিপক্ব ফল দিয়ে তৈরি করা যায় জুস, জেলি এবং মোরব্বার মতো লোভনীয় খাবার। গ্রামাঞ্চলের কেউ কেউ গোশতের সাথে আমড়া রেঁধে খান। ডালের সাথেও খাওয়া যায়। আমড়ার শঁ^াস সাদা। পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। যে কারণে একে গোল্ডেন আপেল বলে। আমড়ায় তেমন কোনো রোগ-পোকার আক্রমণ হয় না। উৎপাদন খরচ কম পড়ে। অন্য যেকোনো ফলের চেয়ে আমড়া বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। এতে কোনো ধরণের রাসায়নিক পদার্থও ব্যবহার করতে হয় না। তাই এ ফল স্বাস্থ্যসম্মতও। কৃষকরা আমড়া চাষ করে অতি সহজেই হতে পারেন স্বাবলম্বী। আমড়াগাছ মাঝারি থেকে কিছুটা বড় আকৃতির হয়। গাছের উচ্চতা ৩০-৪০ ফুট। গাছের প্রতি ডাঁটায় সমান্তরাল কয়েক জোড়া পাতা থাকে। অগ্রভাগে থাকে একটি পাতা। ডাল খুবই নরম। কান্ডও তাই। যে কারণে বাংলা ব্যাকরণের বাগধারায় অপদার্থকে ‘আমড়া গাছের ঢেঁকি’ বলা হয়। কাঠের গুণাগুণ না থাকতে পারে। কিন্তু ফল ধারণে অনন্য। অগ্রহায়ণের শেষের দিকে গাছের পাতা ঝরা শুরু করে। মাসখানিক পাতা শূন্য থাকে। মাঘ-ফাল্গুনে মুকুল আসে। এর পরে ফল। কচি অবস্থায় ফলের বিচি নরম থাকে। পরিপক্ক হলে আঁটি বেশ শক্ত হয়। কার্তিক-অগ্রহায়ণে ফল পাকে। পাকা ফলের গন্ধ চমৎকার।

আমড়া সারা দেশেই চাষ করা যায়। তবে বরিশালের আমড়া সারাদেশে নামকরা। দক্ষিণাঞ্চলের মাটি ও পানির জন্য এর ফলন ও গুণগতমান কাক্সিক্ষত হয়। আমড়া ল্যাটিন আমেরিকার স্থানীয় ফল হলেও বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চাষাবাদ বেশি হচ্ছে। প্রসিদ্ধ হিসেবে সবাই বরিশালের আমড়া বললেও আসলে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিকে (নেছারাবাদ) আমড়ার রাজধানী বলা যায়। কারণ, ওখানকার ফলন হয় সবচেয়ে বেশি। ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা এবং বরগুনায়ও আমড়া ভালো জন্মে। এসব এলাকায় পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া চাষ হয় সমানতালে। বর্ষা মৌসুমে ওখানকার নিচু জমিগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে স্থানীয় কৃষকরা উঁচু করে কান্দি বা বেড তৈরি করেন। এ পদ্ধতিকে সর্জান বলে। দুই বেডের মাঝখানে প্রশস্ত নালা থাকে, যাতে ছোট নৌকাযোগে ফল সংগ্রহ করতে সহজ হয়। চাষিরা গাছ থেকে আমড়া সংগ্রহ করে নিয়ে যান ভাসমান হাটে। সেখানে আমড়া কেনার জন্য শত শত ট্রলারসহ পাইকারী বিক্রেতা জমা হন দলে দলে। ওখান থেকে সরবরাহ করা হয় সারাদেশে। এসব হাটগুলোর মধ্যে ঝালকাঠি সদরের ভিমরুলি, বাউকাঠি, নবগ্রাম এবং নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠি, আদমকাঠি, ধলহার অন্যতম। এক মেট্টিক টন আমড়ার বাজার দর (পাইকারি) ২২ হাজার  টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর খুচরা মূল্য কেজি প্রতি ২৮-৩০ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, গত বছর (২০১৭-২০১৮ খ্রি.) বরিশাল অঞ্চলে ২০ হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে আমড়া চাষ হয়েছিল। যার মধ্যে বরিশালে ৩ শ’ ৫৩ হেক্টর, ঝালকাঠিতে ৫ শ’ ৯১ হেক্টর, পিরোজপুরে ৪ শ’ ৯৩ হেক্টর, পটুয়াখালীতে ২ শ’ ৫৯ হেক্টর, বরগুনায় ২ শ’ ৫ হেক্টর এবং ভোলায় ১ শ’ ৭০ হেক্টর। উপজেলাওয়ারী  সর্বোচ্চ জমির পরিমাণ ঝালকাঠির সদর এবং রাজাপুরে। দু’উপজেলাতে ২শ’ ৬০ হেক্টর করে। চলতি বছরে চাষের পরিমাণ বেড়েছে। নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠি) উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিফাত শিকদার জানান,  গতবার তাঁর উপজেলায় ১ শত ৫০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৪ শ’ ৭৫ মেট্টিক টন আমড়া উৎপাদন হয়েছিল। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১ শত ৫২ হেক্টর জমিতে ১৭ মেট্টিক টন হারে ফলন পাবেন বলে আশা করেন।

পুষ্টিগুণ

আমড়ায় পুষ্টিগুণে টইটম্বুর। ভিটামিন-সি’র পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লৌহ। লৌহের অভাবে আমাদের রক্তস্বল্পতার সৃষ্টি হয়। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় এ উপসর্গ দেখা দেয় না। অভাব বেশি হলেই কেবল শারীরিক দূর্বলতা, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন অসুস্থতা এসবের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তখন বড়দের কর্মক্ষমতা কমে যায়। অপরদিকে শিশুদের মস্তিষ্ক হয় বাঁধাপ্রাপ্ত। ফলে স্কুলের পড়া সহজে শিখতে পারে না। অথচ বাচ্চাসহ বড়রা লৌহসমৃদ্ধ অন্য খাবারের পাশাপাশি আমড়া খেলে এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে (আহারোপযোগী) শর্করা ১৫ গ্রাম, আমিষ ১ দশমিক  ১ গ্রাম, চর্বি ০ দশমিক  ১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০ দশমিক  ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩ দশমিক  ৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৮০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘বি১’ ১০ দশমিক  ২৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘বি২’ ০ দশমিক  ০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘সি’ ৯২ মিলিগ্রাম এবং খাদ্যশক্তি রয়েছে ৬৬ কিলোক্যালরি।

ভেষজগুণ

আমড়ায় আছে যথেষ্ট ভেষজগুণ। কফ ও পিত্ত নিবারণের পাশাপাশি মুখে রুচি আনা এবং কন্ঠস্বর পরিষ্কারে এর ভূমিকা রয়েছে। জ¦র, সর্দি, কাশি,  এমনকি ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণুকে প্রতিরোধ করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত ও পুঁজপড়া বাঁধা দেয়। স্ট্রোক এবং হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে। পেকটিনজাতীয় আঁশ থাকায় বদহজম, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যে দূরীকরণে সহায়তা করে। মুখের রুচি বাড়ায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আমড়া ক্যান্সার প্রতিরোধক। ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। রক্ত আমাশয় হলে আধা কাপ পানিতে ৩/৪ গ্রাম আমড়ার কষ, সেই সাথে ১ চা-চামচ গাছের  রস এবং একটু চিনি মিশিয়ে খেতে হবে।  ব্রণ, ফুঁসকুড়ি কমাতে এবং ত্বক মোলায়েম ও উজ্জ¦ল রাখতে এর অবদান বেশ। আমড়ার পাতা, ছাল, শিকড় এবং বীজে ঔষষিগুণ আছে। পাতার তৈরি ‘চা’ জ্বর ও শরীরের ব্যথা দূর হয়। চা বানানোর জন্য পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানোর পর গুঁড়োকরে ব্যবহার করতে হবে। গাছের ছাল ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রতিহত করার উপাদান রয়েছে। ফলের বীজ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর শিকড় প্রজননজনিত রোগ নিরাময়ে অবদান রয়েছে। ভেষজবিদদের মতে, আমড়ায় গর্ভপাত হওয়ার উপাদান থাকায় গর্ভবতী নারীদের এ ফল খাওয়া নিষেধ। ডায়াবেটিস রোগীরা কাঁচা আমড়া খেতে পারবেন। পাকা ফল নয়।

জাত

বাংলাদেশে দু’প্রজাতির আমড়া চাষ হয়। দেশি এবং বিলাতি। বিলাতি আমড়ার অপর নাম বরিশালের আমড়া। দেশি আমড়ার আদিস্থান দেশের পূর্বাঞ্চল, ভারতের আসাম এবং  মিয়ানমার। আর বিলাতি আমড়ার মাতৃভূমি ফিজি আইল্যান্ড। বিদেশ থেকে আনা হয়, তাই বিলাতি আমড়া। দেশি আমড়া  খেতে টক, বিচি বড়। ফলন গাছপ্রতি ২০০-২৫০ কেজি। বিলাতি আমড়া খেতে মিষ্টি, বিচিও ছোট। ফলন হয় ৩০০-৪০০ কেজি। ভালো ফলনের জন্য আমড়ার উচ্চ ফলনশীল জাত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আমড়া-১ এবং বারি আমড়া-২। বারি আমড়া-১  বারোমাসি। গাছ বামনাকৃতির হয়। ফলের আকার ছোট। গড় ওজন ৬০ গ্রামের মতো। স্বাদ হালকা টক। তাই বাড়ির ছাদেও লাগানো যায়। স্বরূপকাঠির চাষিদের থেকে সংগ্রহ করে বারি আমড়া-২  উদ্ভাবন করা হয়েছে। গাছ বড় আকৃতির। খেতে সুস্বাদু। আকারেও বড়। ফল একবার ধরে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। নাম এফটিআইপি বাউ আমড়া-১।

চারা তৈরি

সাধারণত বীজের মাধ্যমে আমড়ার বংশবিস্তার হয়। চারা তৈরির জন্য পরিপক্ক ফলের শাঁস ছাড়িয়ে বালিতে রোপণ করতে হবে। চারা গজানোর পর টবে কিংবা পলিথিনের পাত্রে স্থানান্তর করতে হয়। টবের মাটি অবশ্যই জৈব সার মিশ্রিত হওয়া চাই।  মাতৃগুণ বজায় রাখা, দ্রুত ফল ধরা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং অধিক ফলন পেতে অঙ্গজ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। আর তা হতে পারে জোড় কলমের মাধ্যমে।

চারা রোপণ

বর্ষা মৌসুম চারা লাগানোর উত্তম সময়। চারা রোপণের জন্যে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে এমন উঁচু, মাঝারি উঁচু এবং সুনিষ্কাশিত উর্বর দো-আঁশ মাটি বেছে নিতে হবে। নির্বাচিত স্থানে একটি উপযুক্ত গর্ত তৈরি করতে হয়। এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা হবে ৩ ফুট করে। গর্তে যেসব জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হবে তা হলো, গোবর ২০ কেজি, টিএসপি ও এমওপি ২০০ গ্রাম করে এবং জিপসাম ৫০ গ্রাম। এসব সার দেয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন পর গর্তের মাঝখানে সোজা করে চারা রোপণ করতে হয়। গাছ হতে গাছের দূরত্ব ২২-২৫ ফুট। তবে বারোমাসি গাছের দূরত্ব হবে ১৫-১৬ ফুট। গাছ লাগানোর পর চারাটি শক্ত খুঁটি সাথে সামান্য ঢিলে করে বেঁধে দিতে হবে, যেন ঝড়ে হেলে না পড়ে। ছাদে উপর টবে চাষ করা যায় বারমাসি আমড়া। ফল পাওয়া যায় বছরখানিক পরই। শুধু প্রয়োজন বছরে ৪ বার সার দেয়া, সে সাথে যতœআত্তি।

সার ব্যস্থাপনা

গাছের বৃদ্ধি এবং কাক্সিক্ষত ফল ধারণের জন্য বছরে দু’বার সার দেয়া দরকার। সার বছরে দু’বার; একবার বর্ষার আগে মার্চ মাসে, আরেকবার বর্ষার পর সেপ্টেম্বর মাসে দিতে হবে। দুপুরবেলায় মাটিতে গাছের ছায়া যতটুকু পড়ে ততোটুকু স্থানে ছ’ইঞ্চি গভীর করে ভালোভাবে কুপিয়ে সার দেয়া উত্তম। অথবা গাছের গোড়া হতে ৩ ফুট বাদ দিয়ে এরপর ৪/৫ ফুট পরিমাণ জমি বৃত্তাকারে অনুরূপভাবে কুপিয়ে দিলেও হবে। সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ দিতে হয়। গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাবারের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। তাই বয়সভেদে যে পরিমাণ জৈব ও অজৈব সার দেয়া প্রয়োজন তা হলো-

 

সূত্র: কৃষি প্রযুক্তি হাতবই ( দ্বিতীয় খন্ড)

যতœ

যতœই রতœ মেলে। অন্য ফসলের ন্যায় আমড়ার ভালো ফলন পেতে যতœ নেয়া দরকার। আগাছা খাবারের ভাগ বসায়। এছাড়া ক্ষতিকর পোকার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। তাই গাছের গোড়া এবং আশেপাশে আগাছামুক্ত রাখতে হবে। খাদ্য তৈরির জন্য পানি গাছের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। সেজন্য শীত মৌসুমে এবং অন্য সময় খরা দেখা দিলে গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। তেমনি বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধতা যেন না হয়, সেজন্য দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। গাছের মরা ডাল কিংবা অবাঞ্ছিত অংশ ছেঁটে দিতে হয়। ডালের সংখ্যা অতিরিক্ত হলে কিছু কেটে পাতলা করতে হবে যেন পর্যাপ্ত আলো বাতাস পাওয়া যায়। গরু-ছাগলের আক্রমণ হতে রেহাই পাওয়ার জন্য চারা অবস্থায় গাছের চারদিকে বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

রোগ পোকা দমন

রোগ পোকা ফসলের অন্তরায়। তবে এর সমাধানও আছে। রোগের মধ্যে অ্যাথ্রাকনোজ, ডাইব্যাক অন্যতম। অ্যাথ্রাকনোজ হলে পাতা এবং ফলে কালচে-বাদামি দাগ পড়ে। পাতা আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। কচিফলে আক্রমণ হলে ফল ঝরে পড়ে। প্রতিকার হিসেবে টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতিলিটার পানিতে ০ দশমিক ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ডাইব্যাগ এক ধরণের ছত্রাকের কারণে হয়। আক্রান্ত গাছের ডগা এবং ডাল উপরের দিকে শুকিয়ে মারা যায়। প্রতিকার হিসেবে ইন্ডোফিল এম ৪৫ প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে স্প্রে করতে হবে। ক্ষতিকর পোকা হলো- বিটল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা। মধ্যআষাঢ় থেকে মধ্যশ্রাবণে বিটলপোকা উপদ্রব দেখা যায়। এরা কচিপাতা খেয়ে গাছকে পাতাশূন্য করে ফেলে। এতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলনও কমে যায়। পোকার সংখ্যা কম হলে সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে সুমিথিয়ন ৫০ ইসি অথবা নগস  প্রতিলিটার পানিতে  ২ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে  ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

ফলন

দেশি আমড়ার গড় ফলন গাছপ্রতি ২০০-২৫০ কেজি। আর বিদেশি আমড়ার ফলন হয় ৩০০-৪০০ কেজি। আমড়া ৪-৫ বছর থেকে ফল দেয়া শুরু করে। একাধারে ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত ভালো ফল দেয়। এরপর ফলন কমতে থাকে। বারোমাসি গাছের বয়স ২-৩ বছর হলেই ফল পাওয়া যায়।

‘ফল খাই বল পাই’ এ কথা সবাই জানি। তারপরও প্রয়োজনমতো খাওয়া হয় না। অসচেতনতা আর প্রাপ্তির অভাবই এর কারণ। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ আছে। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছে শক্তি এবং পরিকল্পনা। আপনার পছন্দমতো যে কোনো ফল বাগান তৈরি করতে পারেন। চাষাবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পাশে আছেন উপজেলা কৃষি অফিসার, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা। তাই আসুন, প্রতিটি বসতবাড়িতে অন্য ফলের পাশাপাশি  দু’একটি হলেও আমড়াগাছ লাগাই। এ ব্যাপারে অপরকেও করি উৎসাহিত।

————————————–

লেখক:

টেকনিক্যাল পার্টিসিপেন্ট, কৃষি তথ্য সার্ভিস, কারিকর বিড়ির ব্রাঞ্চ সংলগ্ন,

পোস্ট অফিস: রূপাতলী হাউজিং, সাগরদি, বরিশাল।

মোবাইলঃ ০১৭১৫৪৫২০২৬ ;

ই-মেইল: pnahid@gmail.com

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare