সাড়ে নয় হাজার দেশি ধানের জাত বিলুপ্ত

এ দেশ থেকে অসংখ্য ধানের জাত বিলুপ্ত হওয়ায় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। উফশী ও হাইব্রিডের দাপটে এসব দেশি জাতের ধান এখন খুব কম চাষ হয়। উন্নত ও কাঙ্খিত জাতের ধান উদ্ভাবনের জন্য দেশি জাতের ধানের জিন প্রয়োজন হয়। দেশি জাতের ধানের ভাত সুস্বাদু ও সুগন্ধি। দেশি জাতের ধান চাষে সার ও সেচ কম লাগে। পোকামাকড় রোগবালাই দ্বারা আক্রান্ত কম হয়। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ কম। ধানগুলো যেহেতু প্রাকৃতিকভাবে এসেছে, সেহেতু হাইব্রিড ও উফশী জাতের চেয়ে বেশী স্বাস্থ্য সম্মত। এখনও দেশি জাতের চালের চাহিদা বেশী, দামও বেশী। যেমন- বাসমতি, কালিজিরা, পাইজাম, নাজিরশাইল, বিরই ইত্যাদি এর বাস্তব উদাহরণ। দেশি জাতের একটি গুণই খারাপ, সেটা হচ্ছে উৎপাদন কম। আবার উৎপাদন খরচও কম, দাম বেশি। কিন্তু উফশী ধানের উৎপাদন খরচ বেশি, কিন্তু ধানের বা চালের দাম কম। এদিক থেকে চিন্তা করলে দেশি জাতের ধান পিছিয়ে নেই। শুধু ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণের জন্য দেশি জাতের ধান বিলুপ্ত হচ্ছে।

জাত সংগ্রহ

১৯৩৯ সালের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট বিশেষজ্ঞ ডঃ জিপি হেক্টরের এক জরিপ থেকে জানা যায়, অবিভক্ত বাংলায় প্রায় ১৮ হাজার জাতের ধান চাষ হতো। এর মধ্যে সাড়ে নয় হাজার জাতের ধান বিলুপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট সত্তর দশকে সারা দেশে জরিপ চালিয়ে ১৯৮২ সালে প্রকাশিত তথ্যে ৩৫৯টি উপজেলার সব ইউনিয়ন থেকে ১২ হাজার ৪৮৭টি ধান জাতের তালিকা তৈরি করে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩ হাজার ১৮৫টি, রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৯৯২টি, চট্রগ্রাম বিভাগে ৩ হাজার ৩০টি ও খুলনা বিভাগে ২ হাজার ৯৯২টি জাতের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট জার্মপ্লাজম সেন্টারের জিন ব্যাংকে ৮ হাজার ৪৫১ জাতের ধান রক্ষিত আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার রোপা আমন, ১ হাজার বোনা আমন, ১ হাজার ১০০ আউশ ও ৫০০ বোরোজাত রয়েছে। ১৯১৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ১ হাজার ৪৪২টি জাতের ধান সংগ্রহ করা হয়। ১৯৭৪ সালে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এর পরামর্শে ও সহায়তায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের কয়েকজন বিজ্ঞানী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ধানের জাত সংগ্রহ করেন। ১৯৭০ সালে ধানের জিন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলেও ১৯৮৫ সালে আধুনিকায়ন করা হয়। সংগৃহীত সব জাতের বৈশিষ্ট্য নিবন্ধন করা হয়েছে। কলেররোডে র্ফোট কালিং জিন ব্যাংকে মাটির নীচে এ উপমহাদেশের প্রায় ৪০ হাজার ধানের জাত সংরক্ষণ আছে বলে জানা যায়। রাজশাহীর হেরিটেজ বাংলাদেশ নামের একটি সংস্থার কাছে ১০০-১৫০ ও সিলেটের আব্দুল বাছিত নামের এক ব্যক্তির কাছে ৬০-৬৫টি জাতের সুগন্ধি ধানের বীজ সংরক্ষিত আছে।

বিভিন্ন জাত

এ উপমহাদেশের বৈচিত্র্যময় আঠারো হাজার জাতের ধান চাষ হত। প্রবীণ ব্যক্তিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কিছু  ধানের জাতের নাম ও বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জাতগুলো হলো- পারাঙ্গী, সোনামুখী, দাদখানি, চিত্তরাঙি, চন্দ্রকুলি, লক্ষ্মীবিলাস, আকাশপালি, বনকামিনী, মাগুরডিমে, মুগিবালাম, দুধেশ্বর, পালকশাইল, পঙ্খীরাজ, ময়ূরলতা, কাজল, সূর্যমণি, কটকতারা, রাঁধুনিপাগল, হনুমানজটা, হলুদগোটা, গেরুমুড়ি, নোনাকুর্চি, কালোমেঘি, সূর্যমুখি, খেজুরঝুপি, বাদকলসকাটি, দোলাভোগ, লক্ষ্মীদীঘা, গদ্যলাকী, চিংড়িমুড়ি, পোড়াবিন্নি, শিলগুড়ি, কাটারিভোগ, মহিষদল, মাটিচাক, বটেশ্বর, ফুলবাদাম, হরিলক্ষ্মি, সরিষাজুড়ি, মধুশাইল, ফুলমালা, বাশঁফুল, সরিষাফুলি, বৈলাম, গিগজ, মধুমালতি, যাত্রামুকুট, বাবুইঝাঁক, জলকুমারি, গান্ধিভোগ, লেচুশাইল, ফুলমুক্তা, বেনামুড়ি, বেগুনবিচি, রায়দা, চান্দাবিন্নি, খুরমা, সাগরধান, পুড়াবিন্নি, কাচরা, গোচিবোরো, চিনিসাগর, রাজভোগ, বিরই, পটকা, পাথরনাতী, ফুলকাটি, ঠাকুরভোগ, সাইটা, তুলশিমালা, দুলাই, ভাতুরি, মুগি, চাপালি, বরণ, চামারাসাদা, চামারা লাল, কাইকা, ভাওইলা, কাতিকাইকা, পাজরা, ঢেপা, গাইঞ্জা, খামা, পূর্বাচি, বাইশবিশ, গাবুরা, বাজাইল, দিঘা, জোয়ালভাঙ্গা, কাশকাখি, কার্তিকাশাইল, রবিশাইল, লতিশাইল, আইআর ৮, ঝাউলতা, আশমতিয়া, হিজলিকামা, লোহাগড়া, মুইরল, গরফা, ধরিয়ান, বাদল, কার্তিকা, তিলকাচারি, আশ্বিণা, ভদোইয়া, বাদশাভোগ ইত্যাদি। প্রতিটি ধানের নামের পেছনে রয়েছে বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাস। প্রতিটি চালের স্বাদ ও গন্ধ বৈচিত্রময়।

ধানের ইতিহাস থেকে জানা যায়, রায়েদা এ দেশের প্রথম ধান, যা খুলনা অঞ্চলে প্রথম পাওয়া যায়। এ অঞ্চলে ধান আবাদ হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার বছর আগে থেকে। পাজাম ধানটি পাকিস্তান আমলে এ দেশে আনা হয়।  ধানটির জন্মস্থান জাপান। কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ধানটির নাম দেয় পাজাম। পাকিস্তানের পা জাপানের জা এবং মালয়েশিয়ার ম দিয়ে পাজাম নাম হয়েছে। সুগন্ধি জাতের ধান হচ্ছে কালিজিরা, বাদশাভোগ, চিনিগুড়, কাশকাখি, রাধুনিপাগল, বাশমতি, বেগুনবিচি ইত্যাদি। এগুলোর প্রতিটির রয়েছে উপজাত। যশোর এলাকা থেকে বিলুপ্ত ধান হচ্ছে-শালকোল, কলামোচা, মেহেরফল, বাবুই, কেরশাল, ভাড়াল, হলদি গিরে, মনহর, গাম্ভির, হলদানি, মাসকালি, চিনিআলো, পাটনাই, রহমত, খাসকানি, এইচআরবি, শ্রাবনী, চিনিকাই, মানিকাদিগে, কাচেরি, মুরারি, বিরুইন, উরিচেদড়া, আপছায়া, কয়েসাবিন্নী, জসা, স্বর্ণপুটি, মোহনভোগ, দুধশাইল, স্বর্ণা, সুন্দরশাল ইত্যাদি। টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর-ঘাটাইল থেকে বিলুপ্ত হয়েছে দুলাই, ভাতুরি, সাইটা, মুগি, চাপালি, বরণ, ঢেপা, গাইনজা, বাঁশিরাজ, কাতিকাইকা, ইত্যাদি। ১৮ হাজার জাতের ধানের মধ্যে এখন ৫০-৬০ হাজার জাতের ধান কৃষক পর্যয়ে চাষ হচ্ছে। বাকিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। স্থান করে নিয়েছে ৫৬ জাতের উফশী ও ৮-১০ জাতের দেশি-বিদেশি হাইব্রিড জাত।

জাত সংরক্ষণ পদ্ধতি

ধানের জাত ও স্থান শনাক্ত করে বীজ সংগহ করা হয়। বীজ জমিতে জন্মিয়ে বর্ধন করা হয়। ধানের গাছ ও বীজের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে লিপিবদ্ধ করা হয়। উৎপাদিত বীজের এক অংশ সংরক্ষণ এবং অন্য অংশ সরবররাহ বা পুনরুদ্ধারে ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা  ইন্সটিটিউটের জেনেটিক্স ডিভিশন সুত্রে জানা যায়, এখানে ধানের জিন ব্যাংকে তিন ভাগে বীজ সংরক্ষণ করা হয়। স্বল্পমেয়াদী তিন-পাঁচ বছর, মধ্যমেয়াদি ১০-১৫ বছর এবং দীর্ঘমেয়াদি ৫০-হাজার বছরের জন্য বীজ সংরক্ষণ করা হয়। ৫০ বছর পর্যন্ত বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার  আগেই বীজ জিন ব্যাংক থেকে বের করে বাইরে জমিতে চাষ করে বীজ বর্ধন করে আবার জিন ব্যাংকে বীজ রাখা হয়। বীজ নমুনা থেকে ১৫০ গ্রাম বীজ কাগজের প্যাকেটে নিয়ে সিলিকা জেল দিয়ে বড় কাচের পাত্রে জার্মপ্লাজমে রাখা হয়। প্রতি বছর দু’বার জীবের সজীবতা রক্ষা করা হয়। বীজের অঙ্কুরোদগম হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে জমিতে চাষ করে নতুন বীজ রাখা হয়।

জাত বিলুপ্তির কারণ

আদিকাল থেকে কৃষকরা যে ধানে ফলন বেশি হয়, খরা সহ্য করতে পারে, বন্যা সহ্য করতে পারে, ক্ষেতে স্বাদ, সুগন্ধি, খরচ কম, পোকামাকড় রোগ দ্বারা কম আক্রান্ত হয় এমন ধান রেখে অন্য ধান চাষ বাদ দিয়েছেন। ফলে বাদ পড়া ধান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়া কালের বিবর্তনে চাহিদা, বাজার চাহিদা, বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ুগত পরিবর্তন ইত্যাদি কারণেও অনেক ধানের জাত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এসব কারণেই সাড়ে ৯ হাজার ধানের জাত হারিয়ে গেছে।

মালিকানা হারাচ্ছে বাংলাদেশ

দেশি প্রজাতির সাড়ে ৯ হাজার ধানের জিন কোড, ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও পাসপোর্ট বা বংশপরিচয় তৈরি না করায় এসব ধানের মালিকানা হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া এসব ধান বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ভিন্ন নামে পেটেন্ট করে  বাজারজাত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই বাসমতি চাল টেকনোমতি নামে পেটেন্ট করে বাজারজাত করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ চালের মালিকানা আমরা আর দাবি করতে পারব না। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘বায়োপাইরেসি’।

নিজস্ব সম্পদের অধিকার বা মালিকানা পেতে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশনে (আইপিআর) পেটেন্ট জমা দিতে হয়। আইপিআর বিশ্বের সব দেশকে তাদের খাদ্যসামগ্রী, ফসল, লতাপাতা ও গাছের নিজস্ব পেটেন্ট তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। তালিকা জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সম্পদের তালিকাও করেনি। তবে ওষুধ জমা না দিলে এর মালিকানা দাবি করতে পারবে না। বাংলাদেশ ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার খাদ্যশস্যের মালিকানা চুক্তির ২৭ (৩) টি ধারা অনুযায়ী সব দেশকে নিজস্ব আইন তৈরির মাধ্যমে নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের পেটেন্ট তৈরির সুযোগ দিয়েছে। কোন পেটেন্টভুক্ত দেশের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, আমদানি ও রফতানি করা হলে মালিকানা দেশের অনুমতি লাগবে এবং রয়ালিটি দিতে হবে। ব্রি এর বিআর ২৯ জাতের ধান সিনজেনটা কোম্পানিকে দিয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্রবেশ করানেরা জন্য। সিনজেনটা বিআর২৯ জাতে ভিটামিন ‘এ’ প্রবেশ করিয়ে গোল্ডেন রাইস নামে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শেষ কথা

১৮ হাজার ধানের জাতের মধ্যে গত ৭০ বছরে সাড়ে নয় হাজার জাতের ধান এদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৮ হাজার জাতের ধান ব্রি এর জার্মপ্লাজম সেন্টারে সংরক্ষণ আছে। কৃষক চাষাবাদ করছে ৫০-৬০টি দেশি জাতের ধান। হাইব্রিডের দাপটে এগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। দেশি ও উফশী জাতের চাষাবাদ কমে গেলে আস্তে আস্তে এগুলোও বিলুপ্ত হবে। এতে কৃষকের কাছে কোন বীজ থাকবে না। দেশ বীজ শূণ্য হয়ে যাবে। বীজের জন্য বহুজাতিক কোম্পানীর উপর নির্ভর করতে হবে। এবছরই বহুজাতিক কোম্পানী ও বিএডিসির উপর নির্ভর করে বোরো চাষে কৃষকরা ব্যাপকহারে বীজ ঘাটতির মধ্যে পড়ে। দেশের উৎপাদিত ধানের জাত বিলুপ্ত হলে আমাদের প্রধান খাদ্য ভাতের বৈচিত্রতা থাকবে না। এছাড়াও দেশ কৌলি সম্পদ হারাবে। প্যাটেন্ট না করলে এগুলোর মালিকানাও হারাবে বাংলাদেশ। এজন্য দেশি জাতের ধান-বীজ শুধু জিন ব্যাংকে সংরক্ষণ করলেই হবে না। মাঠ পর্যায়ে সবসময় চাষাবাদের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষকদের ভর্তুকি দিতে পারে। প্রদর্শনী প্লট করে কৃষকদের দেশি জাতের ধান চাষে আগ্রহী করতে হবে। যাহোক, ধানের জাত বিলুপ্ত থেকে রক্ষার জন্য কৃষক, কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গবেষণা ইন্সটিটিউট, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

 

লেখকঃ

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ

কৃষি সাংবাদিক ও কলেজ শিক্ষক

ইউনিক ফার্মেসী,

বটতলা, জেলাসদর রোড

টাঙ্গাইল-১৯০০

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৪১৪৩

 

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare