সুস্বাস্থ্যে জন্য থানকুনি পাতা

উম্মে নুসাইবা
বাংলা নাম থানকুনি৷ অঞ্চলভেদে এটি টেয়া, মানকি, তিতুরা, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি , মানামানি , ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি নামে পরিচিত৷
ব্যবহার্য অংশঃ মূল, কান্ড , ও পাতা৷
থানকুনি একটি অনাবাদী ঔষধি গাছ৷ এটি বাড়ীর আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে, মাঠে স্যাঁতস্যাতে জায়গাগুলোতে বর্ষাকালে বেশি পাওয়া যায়৷ এছাড়া সারা বছরই কম-বেশি পাওয়া যায় ৷
পরিচিতিঃ এই গাছটি ক্ষুদ্র লতা জাতীয় উদ্ভিদ৷ এর পাতা ক্ষুদ্র গোলাকৃতির৷ পাতার ধারে খাঁজ রয়েছে৷ বাংলাদেশের সর্বত্র এই গাছটিকে দেখতে পাওয়া যায়৷ তবে উপকূলীয লবনাক্ত আবহাওয়ায় এটি ভালো জন্মে৷ গ্রামীণ সাধারণ মানুষের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয় ৷
বংশবিস্তারঃ বসন্তকালে থানকুনি লতার ফুল আসে এবং গ্রীষ্মকালে ফল পাকে৷ বীজের মাধ্যমেও অঙ্গজ জনন উভয়ভাবেই থানকুনির বংশবিস্তার হয়৷ প্রতিটি গিট বা হড়ফব থেকে শিকড় বের হয় এবং শিকড়সহ লতা এনে আদর্্র জমিতে রোপণ করলেই থানকুনি জন্মে৷ তবে খেয়াল রাখবে হবে যে এটি আদর্্র মাটি পছন্দ করলেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না৷ বাংলাদেশের মাটি থানকুনি জন্মানোর জন্য খুবই উপযোগী হলেও নার্সারীতেও এ লতার চারা পাওয়া কঠিন৷ তবে গ্রামাঞ্চলে এটি সর্বত্রই পাওয়া যায়৷
থানকুনির গুণাগুণ ও ব্যবহার
থানকুনিতে যে সকল রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে সে গুলো হলোঃ
জ্বর : থানকুনি পাতার রস ১ চামচ ও শিউলি পাতার রস ১ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেলে জ্বর সারে৷
পেটের পীডাঃ অল্প পরিমাণ আমগাছের ছাল, আনারসের কচি পাতা ১টি, কাঁচা হলুদের রস, ৪/৫ টি থানকুনি গাছ শিকড় সহ ভাল করে ধুয ে একত্রে বেটে রস করে খালি পেটে খেলে পেটের পীড়া ভাল হয়৷ ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি কার্যকর৷
গ্যাস্ট্রিকঃ আধা কেজি দুধে ১ পোয়া মিশ্রি ও আধা পোয়া থানকুনি পাতার রস একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ১ সপ্তাহ খেলে গ্যাস্ট্রিক ভাল হয়৷
হজম শক্তি বৃদ্ধি : বেগুন/পেঁপের সাথে থানকুনি পাতা মিশিয়ে শুকতা রান্না করে প্রতিদিন ১ মাস খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়৷
রক্ত দূষণ রোধে থানকুনি : প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ৪ চা চামচ থানকুনি পাতার রস ও ১ চা চামচ মধু/ মিশিয়ে ৭ দিন খেলে রক্ত দূষণ ভাল হয়৷
বাক স্ফুরনেঃ যে সব বাচচা কথা বলতে দেরি করে অথবা অস্পষ্ট, সে ক্ষেত্রে ১ চামচ করে থানকুনি পাতার রস গরম করে ঠান্ডা হলে ২০/২৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে ঠান্ডা দুধের সাথে কিছুদিন খাওয়ালে অসুবিধাটা সেরে যায় ৷
খুসখুসে কাশিতে : ২ চামচ থানকুনির রস সামান্য চিনিসহ খেলে সঙ্গে সঙ্গে খুসখুসে কাশিতে উপকার পাওয়া যায়৷ ১ সপ্তাহ খেলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে৷
আমাশয়ঃ প্রতিদিন সকালে ৫/৭ টি থানকুনি পাতা চিবিয়ে ৭ দিন খেলে আমাশয় ভাল হয৷ অথবা, থানকুনি পাতা বেটে পাতার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে দুই চামচ দিনে দুই বার খেলে আমাশয় ভাল হয় ৷
পেট ব্যথাঃ থানকুনি পাতা বেটে গরম ভাতের সাথে খেলে পেট ব্যথা ভাল হয ৷
লিভারের সমস্যাঃ প্রতিদিন সকালে থানকুনির রস ১ চামচ, ৫/৬ ফোঁটা হলুদের রস (বাচ্চাদের লিভারের দোষে) সামান্য চিনি ও মধুসহ ১ মাস খেলে লিভারের সমস্যা ভাল হয়৷
লাবণ্যতাঃ যদি মুখ মলিন হয়, লাবণ্যতা কমে যায় তবে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধ দিয়ে খেতে হবে৷ নিয়মিত করলে উপকার পাবেন৷
দূষিত ক্ষতঃ মূলসহ সমগ্র গাছ নিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দূষিত ক্ষত ধুতে হবে৷
মুখে ঘাঃ থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে৷
আঘাতঃ কোথাও থেঁতলে গেলে থানকুনি গাছ বেটে অল্প গরম করে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাবেন৷
সাধারণ ক্ষতঃ থানকুনি পাতা বেটে ঘিয়ের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঠাণ্ডা করে তা ক্ষত স্থানে লাগাতে হবে৷
চুল পড়াঃ অপুষ্টির অভাবে, ভিটামিনের অভাবে চুল পড়লে পুষ্টিকর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে৷
পেটের দোষঃ মলের সঙ্গে শ্লেষ্ণা গেলে, মল পরিষ্কারভাবে না হলে, পেটে গ্যাস হলে, কোনো কোনো সময মাথা ধরা এসব ক্ষেত্রে ৩-৪ চা চামচ থানকুনি পাতার গরম রস ও সমপরিমাণ গরুর কাঁচা দুধ মিশিয়ে খেতে হবে৷ নিয মিত খেলে উপকার পাবেন৷
স্মরণশক্তিঃ মনে না থাকলে আধা কাপ দুধ, ২-৩ তোলা থানকুনি পাতার রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে৷
নাক বন্ধঃ ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হলে, সর্দিকাশি হলে থানকুনির শিকড় ও ডাঁটার মিহি গুঁড়ার নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়৷

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *