স ম্পা দ কী য় – চাল রফতানি প্রসঙ্গ

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে যে, চাল উৎপাদনে  বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চাহিদার চেয়েও দেশে বেশি চাল উৎপাদন হচ্ছে। আর এ কারনে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত আশাপ্রদ। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে লোক সংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৫ কোটি তখন বিঘায় প্রায় ৭-৮ মন ধান উৎপাদন হতো। ১৯৭২ সালে দেশে খাদ্য শস্য উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ মে: টন। তখন এই খাদ্য তৎকালীন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। স্বাধীনতার পর চার দশকে বাংলাদেশের ধান উৎপাদন তিনগুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি মে: টন খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। একদিকে আবাদি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে অন্যদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর মতে, যদিও ১৯৭১ সাল থেকে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ২০ থেকে ৩০% কমে গেছে। বর্তমানে জনসংখ্য প্রায় ১৭ কোটি হওয়া সত্ত্বেও দেশ চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

এর পেছনে কৃষি বিজ্ঞানী এবং কৃষিবিদগণ নিভৃতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রায় ৭০টির অধিক উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। দেশে এখন চাষ হচ্ছে হাইব্রীড ধান। যা শতাংশে প্রায় ১.৫০ মন ফলন দিতে সক্ষম। এ সফলতার জন্য দেশের নিভৃতচারী কৃষি বিজ্ঞানীগণ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

অপরদিকে চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও চালের দাম বাড়ছে। চালের বাজারে অস্থিরতা যেন কমছেই না। পাইকারি বাজার বা মোকামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাম বাড়ছে খুচরা বাজারে। এক মাসের ব্যবধানে ধাপে ধাপে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ছয় থেকে সাত টাকা। এখন দাম বাড়ানো হচ্ছে পরিবহন সংকট ও মৌসুম শেষ হওয়ার দোহাই দিয়ে। অথচ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে চলের দাম হ্রাস পেয়েছে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত। এদিকে দেশের বাজারে চালের দাম বেশি থাকলেও ৩৫ টাকা দরে ৫০ হাজার টন চাল শ্রীলংকায় রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টনপ্রতি চালের দাম ধরা হয়েছে ৪৫০ ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাল রফতানির খবরেই চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠে। একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে আকাশ ছোঁয়া চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ম আয়ের মানুষ থেকে মধ্যবিত্তরা।

এমতাবস্থায়, দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। আর চালের দাম দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে খোলা বাজারে চাল বিক্রি অব্যাহত রাখতে হবে। নতুবা সফলতার গল্প ম্লান হতে বাধ্য। অন্যদিকে কৃষি বিজ্ঞানী তথা কৃষিবিদগণ কে উৎসাহব্যঞ্জক প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। তাহলে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *