স ম্পা দ কী য়

 

কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আগামী জুন মাসে দেশের জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট পেশ করা হবে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। এ ছাড়া এ খাতের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পথ খুঁজে বের করা দরকার। পাশাপাশি কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে হলে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। আভাস পাওয়া যাচ্ছে আগামী বাজেটের আকার চলতি বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেড?ে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। সেটি হলে কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে ২৬ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে ১০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা। তাই আগামী বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা বা ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।

তাছাড়া আগামী বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে। কৃষি পণ্যের উপর ভর্তুকি বাড়ালে উৎপাদন খরচ স্বাভাবিক নিয়মে কমে যায়। ফলে এর সুফল সামগ্রিক কৃষিতেই পড়ে। সম্প্রতি ঢাকায় বাজেট নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সি এস করিম বলেন, কৃষি খাতে সরকার যে ভর্তুকি দেয় তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। সরকার যদি এ খাত থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য আমদানি করতে হবে। আর তখন ভর্তুকির সুবিধা যাবে অন্য দেশের কৃষকের কাছে। সরকার বিভিন্ন মৌসুমে যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে নগর অর্থনীতি থেকে বিপুল অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি হয়। তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিতে এক টাকা ভর্তুকি দিলে ১০ গুন পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া যায়। সে কারনে এ খাতে ভর্তুকি বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

বাজেটে আরো যে সব বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি তাহলো- কৃষকদের জন্য কার্যকর সংগঠন গড?ে তোলা, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করা, কার্যকর বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে সহায়তা বাড়ানো, কৃষিতে নিয়োজিত নারীর স্বীকৃতি ও সহায়তা কর্মসূচিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। আমরা লক্ষ্য করি, প্রতি বছর বাজেট বাড়লেও সেই হারে কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ে না বরং জাতীয় বাজেটের কৃষি ব্যয় সংকোচন নীতি অবলম্বন করা হয়। এটা কাম্য নয়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিশাল জনগোষ্ঠির খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

২. পহেলা মে মহান মে দিবস। মহান মে দিবস সকল মেহনতি মানুষের মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার স্মারক দিবস। শ্রমিক তথা কৃষি শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা লাভ করুক এটাই হোক মে দিবসের অঙ্গীকার।

 

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare