স ম্পা দ কী য়

প্রসঙ্গঃ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে সবজির বাজার

শীতকালীন সবজিতে ভরে গেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো। বাজারে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, গাজর, শালগম, টমেটো, শিমসহ নানারকম সবজির সমারোহ। তবে সরবরাহের তুলনায় এখনও মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরেই রয়েছে এসব সবজির দাম।

প্রসঙ্গত: ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন পণ্যমূল্য এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য। তার গবেষণার ফল অনেকটা এ রকম; যে, বাজারে থরে থরে পণ্য সাজানো থাকবে কিন্তু কেনার লোক থাকবে না। যদি ওই সব পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে না থাকে। আবার ক্রয়মতার মধ্যে থাকলেও কোনো পণ্য আশানুরূপ বিক্রি হয় না, যদি চাহিদার সাথে দামের পার্থক্য বিদ্যমান থাকে। তার ভাষায়, ‘খাদ্যের অভাবেই দূর্ভিক্ষ হবে এমনটি সবসময় সঠিক নয়। বরং যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যপণ্য মজুদ থাকার পরও কোনো দেশে দূর্ভিক্ষ হতে পারে।’ অনেকেই বলছেন অমর্ত্য সেনের গবেষণালব্ধ তথ্যের প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে বাংলাদেশের বর্তমান বাজার ব্যবস্থা। বাজারে থরে থরে সাজানো আছে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি। এসব সবজি আগে থেকেই পাওয়া গেলেও এখন অনেকটা পুষ্ট হয়েছে, বেড়েছে সরবরাহের পরিমাণও। তবে অনেকেই বলছেন সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান থাকায় দাম কাংঙ্খিত হারে কমছে না। রয়ে গেছে এক বাজারের সাথে অন্য বাজারের এবং পাইকারি বাজারের সাথে খুচরা বাজারের বিস্তর মূল্য তফাৎ। বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার সুযোগে যে যার মতো করে আদায় করছেন বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম। বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, ধুন্দল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পাতাকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। অথচ গত বছর আগে এ সময়ে এসব সবজি বিক্রি হয়েছিল কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কম দরে। ভরা মৌসুমেও সবজির দাম আশানুরূপ না কমার জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুষছেন খুচরা বিক্রেতাদের। আর খুচরা বিক্রেতাদের আঙুল সমাজের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার দিকে। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, বাসা ভাড়াসহ সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়া, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণের প্রভাবও বাজারে পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। যদিও প্রতিটি খুচরা বাজারেই সবজির দাম পাইকারি বাজারের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ।

মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য প্রচুর শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। এমনিতেই সবজি খাওয়ার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমরা মাথাপিছু দৈনিক ৩০ গ্রামের মত সবজি খেয়ে থাকি যদিও প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ হার ১৬৮ গ্রাম যা আমাদের চেয়ে ৫ গুণের ও বেশি। তার উপর সবজির ভরা মৌসুমে এমন উচ্চ মূল্যের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের  ত্রাহি অবস্থা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে সবজি বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ভোক্তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।

২. আসছে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাস লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন পতাকা, সার্বভৌম দেশ। লক্ষ প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে জাতি অর্জন করে স্বাধিকার। মহান বিজয় দিবসে সকল শহীদানদের প্রতি আমরা জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। স্বাধীনতার সুফল যেন সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা পায় আজকের দিনে সেটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare