স ম্পা দ কী য়

 

বিশ্ব খাদ্য দিবস ঃ প্রাসঙ্গিক ভাবনা

আসছে ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ঋঅঙ) উদ্যোগে প্রতি বছর সদস্যভুক্ত সব দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় দিবসটি। ১৯৮১-৮২ সনে প্রথমবার ‘সবার আগে খাদ্য’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ দিবসটি পালনের সূচনা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব খাদ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ঋধসরষু ঋধৎসরহম: ঋববফরহম ঃযব ড়িৎষফ পধৎরহম ভড়ৎ ঃযব বধৎঃয. অর্থাৎ পৃথিবীকে যতেœ রেখে পারিবারিক খামারের মাধ্যমে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন।

একটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিধান করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি এবং যথাযথ পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম শর্ত। বর্তমানে দেশে আবাদি জমি ১% হারে কমছে, জনসংখ্যা বাড়ছে ১.৪৭% হারে। ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে পারিবারিক খামারের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হবে। দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৮ লক্ষ বসতভিটা আছে। পরিবারের খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও ফলমূলের চাহিদা মিটানোর জন্য প্রতিটি বসতবাড়িকে খামারে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমান সরকারের কৃষিক্ষেত্রে একটি বড় কর্মসূচি হচ্ছে- ‘একটি বাড়ি একটি খামার’। এ কর্মসূচী এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ন। এই কর্মসূচিতে প্রতিটি পরিবারেই খাদ্যশস্য, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডিম, মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

অপরদিকে পৃথিবীর মাটি, বায়ু ও পানি বিশুদ্ধ রেখে খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব পদ্ধতিতে অর্থাৎ অর্গানিক ফার্মিং পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। অর্গানিক ফুড বা জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্যের প্রতি সারা পৃথিবীর মানুষের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। রাসায়নিক সার দিয়ে ফসল চাষাবাদ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ফসল উৎপাদন খরচও বেশি হয়। জৈবসার দিয়ে ফসল চাষাবাদ পরিবেশসম্মত ও উৎপাদন খরচ কম হয়। বাংলাদেশে শাকসবজি উৎপাদনে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলো আমাদের দেশ থেকে শাকসবজি কিনতে অনীহা প্রকাশ করেছে। জৈব উপায়ে খাদ্যশস্য ও শাকসবজি উৎপাদন খরচ কম কিন্তু বেশি দামে দেশে ও বিদেশে বিক্রির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিষমুক্ত নিরাপদ অর্গানিক খাদ্য উৎপাদনের দিকেও আমাদের মনযোগ দিতে হবে।

আমাদের খাদ্য আমাদেরই উৎপাদন করতে হবে। আমাদের দেশের মাটি, পানি, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং নিজস্ব প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তা করতে হবে। পরিবর্তিত জলবায়ুতে খাপ খাইয়ে আমাদের উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। সব সংকট মোকাবেলা করে নিশ্চিত করতে হবে খাদ্য নিরাপত্তা। এজন্য সরকারি বেসরকারি পর্যায় থেকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাই এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য যর্থাথ হয়েছে বলে আমরা মনে করি। একারনে কৃষিবার্তার এ সংখ্যাকে বিশ্ব খাদ্য দিবসের বিশেষ সংখ্যা হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। কৃষিবার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের সফলতা কামনা করছি।

২. প্রিয় পাঠক! ত্যাগের মহিমা নিয়ে মুসলিম জাহানে আবার সমাগত পবিত্র ঈদুল আযহা। পবিত্র ঈদুল আযহায় আমাদের সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ি ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতি রইল ঈদ মোবারক।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare