স ম্পা দ কী য়

কৃষিতে নারী শ্রমিকদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গ কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেই হয়। একইভাবে কৃষিখাতে বীজ বপন থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত ২২টি ধাপের ১৭টি ধাপ এখনও কিষাণির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি এবং বিভিন্ন শিল্পে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দেশের ৫৩ শতাংশ গ্রামীণ নারী। এ ক্ষেত্রে পুরুষের ভূমিকা ৪৭%। গ্রামীণ নারী রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এক গবেষণা জরিপে দেখা যায়, দেশে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ৪৩ শতাংশ আর মোট শ্রমশক্তির ৭৮ শতাংশই কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। কর্মক্ষম নারীর মধ্যে কৃষিকাজে সবচেয়ে বেশি নারী নিয়োজিত রয়েছেন। কৃষিতে নারীর সংশ্লিষ্টতা অবদান ব্যাপক ও বিস্তৃত। এরমধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো- বীজ সংরক্ষণ, বীজ অঙ্কুরোদগম, বীজ বাছাই, বীজ শোধন, বীজতলায় বীজ বপন, চারা তোলা, চারা রোপণ, পুষ্টিসম্মত রান্না কৌশল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কর্তন উত্তর কৌশল, শস্য সংরক্ষণ, জৈবকৃষি, জৈবসার তৈরি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা, ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা, কুইক কম্পোস্ট তৈরি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা, খামারজাত সার, মুরগি পালন, হাঁস পালন, ছাগল পালন, গরু পালন, দুধ দোহন, গরু মোটাতাজাকরণ, ডিম ফোটানো, হাঁস-মুরগি লালন পালন, হাঁস লালন পালন, বসতবাড়িতে শাক সবজি চাষ, বসত বাড়িতে ফুল-ফল চাষ, বসত বাড়িতে ভেষজ চাষ, কবুতর পালন, কোয়েল পালন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, মৌচাষ, শীতল পাটি বুনন ব্যবস্থাপনা, হোগলা তৈরি, বায়োগ্যাস কার্যক্রম, বনসাই, অর্কিড, ক্যাকটাস চাষ, কুল বার্ডিং, খাঁচায় মাছ চাষ, পুকুরে আধুনিক উপায়ে মাছ চাষ, ছোট কৃষি শিল্প জ্যাম জেলি আচার কেচাপ স্যুপ আমসত্ত্ব তালসত্ত্ব, মাছের সাথে হাঁস-মুরগির চাষ, ভাসমান সবজি চাষ, ঘাস চাষ, মাশরুম চাষ, আলুর কলার চিপস, চানাচুর তৈরি, ছাদে বাগান, আইপিএম, আইসিএম, আইএফএম, বাহারি মাছ, পারিবারিক শাক সবজি সংগ্রহ, পারিবারিক শাক ফলমূল সংরক্ষণ, জ্বালানি সংগ্রহ, কৃষি বনায়ন, সামাজিক বনায়ন। এ সবগুলোর সিংহভাগ নারীই সম্পাদন করেন। কোনটাতে এককভাবে আবার কোনটাকে যৌথভাবে। কিন্ত একই পরিমাণ সময় একসাথে কাজ করার পর পুরুষরা মহিলাদের চেয়ে কম মজুরি পান, অথচ দেখা যায় মহিলারা পুরুষের তুলনায় বেশি কাজ করেন। আর মোট কৃষির ৪৫.৬% বিনা মূল্যে মহিলারা শ্রম দেন আর বাকি ৫৪.৪% অংশ শ্রম টাকার বিনিময়ে কেনা হয়। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যেখানে নারী সেখানে নারীর উন্নয়ন ব্যতীত দেশের কৃষি সেক্টরের উন্নয়ন অসম্ভব। ৭৭% গ্রামীণ নারী কৃষি সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থাকলেও তাদের শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। রাষ্ট্রীয় সামাজিক বা পারিবারিকভাবে কৃষির সাথে জড়িত নারীর কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। সে সাথে এ খাতে নারীর মজুরি বৈষম্যসহ সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশে কৃষিকে যেমন উপেক্ষা করা যায় না, তেমনি এ খাতে নারীর অবদানকেও আজ অস্বীকার করার উপায় নেই। কৃষিখাতে নিয়োজিত নারী শ্রমিকের স্বীকৃতি ও ন্যায্য মজুরি প্রদান নিশ্চিত করতে পারলে দেশের কৃষি উৎপাদন কাজে নারীরা আরও আগ্রহী হবে। এর ফলে কৃষিখাতের উৎপাদন বাড়বে, জিডিপিতে কৃষির অবদানও বাড়বে। এজন্য কৃষিকাজে জড়িত নারী শ্রমিকদের মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ২. আসছে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাস লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন পতাকা, সার্বভৌম দেশ। লক্ষ প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে জাতি অর্জন করে স্বাধিকার। মহান বিজয় দিবসে সকল শহীদানদের প্রতি আমরা জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। স্বাধীনতার সুফল যেন সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা পায় আজকের দিনে সেটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *