স ম্পা দ কী য়

কৃষিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাহিরে রাখতে হবে সম্প্রতি টানা অবরোধ-হরতালে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের সবজি চাষীরা। যানবাহন সংকটে দেশের বিভিন্ন বাজারে সবজি পাঠাতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কৃষক সবজির মূল্য না পেয়ে ক্ষেত থেকে সবজি না তুলে নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার অনেকে কষ্ট করে হাটে আনলেও ক্রেতা না থাকায় পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে লাভতো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না। অন্যদিকে প্রান্তিক সবজি চাষীরা দাম না পেলেও রাজধানীতে চাহিদামতো সবজির সরবরাহ না থাকায় দাম বাড়ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এক খবরে জানা গেছে, বগুড়ার মহাস্থানগড়ের সবজি বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ১ টাকায়। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে, প্রতি কেজি ফুলকপি উৎপাদনে কৃষকের নিট খরচ পড়েছে চার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে কৃষকের লোকসান যাচ্ছে তিন টাকা। অবরোধের আগে আলুর মণ ছিল ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ’ থেকে ২শ’ ৮০ টাকায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। রাজধানীর কাওরান বাজার ও নিউমার্কেট সূত্রে জানা যায়, অবরোধের আগের তুলনায় প্রতিটি সবজিই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অবরোধের কারণে পণ্যবাহী ট্রাক আসতে পারছে না। আবার ঝুঁকি নিয়ে যেসব যানবাহন আসছে তার জন্য গুণতে হচ্ছে দুই-তিনগুণ বেশি ভাড়া। কাওরান বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গড়ে প্রতিদিন এই বাজারে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ ট্রাক সবজি নিয়ে আসত। কিন্তু এখন তা এসে দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ একশ’তে। অন্যদিকে অবরোধের আগে বগুড়া থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত যে ট্রাক ভাড়া ছিল ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এই বাড়তি ভাড়া সবজির দামের সাথে যুক্ত হচ্ছে। ফলে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে। আবার অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করা বন্ধ করে দিয়েছেন। সবজি বাজারের এই হতাশাজনক অবস্থা চলতে থাকলে দেশের মানুষের যেমন ভোগান্তির শেষ থাকবে না তেমনি কৃষিতে এর বিরুপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। এমনকি এর বিরুপ প্রভাব দেশের অর্থনীতির উপর পড়বে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞ মহলের। এমনিতেই আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না। তার উপর হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচী এসব চাষিদের জন্য যেন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’। হরতাল-অবরোধ একটি গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও এধরণের রাজনৈতিক কর্মসূচি কৃষিতে যে ধরণের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা সহজে পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। সেই কৃষি যদি হুমকির মুখে পড়ে তাহলে জাতীয় অগ্রগতির চাকাও থেমে যেতে পারে। সেকারণে কৃষিকে এসব কর্মসূচির বাহিরে রাখা উচিত। বিশেষ করে কৃষিপণ্যবাহী ট্রাক এবং কৃষি বাজারকে হরতাল-অবরোধের বাহিরে রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা আজ বড়ই প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। ২. ফেব্রুয়ারি মাস। আমাদের মহান ভাষার মাস। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন, বুকের তপ্ত রক্ত ঢেলে দিয়েছেন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করতে তাঁেদরকে জানাই বিন¤্র শ্রদ্ধা। দেশের র্সবস্তরে মাতৃভাষা বাংলা সমুন্নত হোক, প্রতিষ্ঠা পাক সেটাই হোক ভাষা মাসের অঙ্গীকার।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *