স ম্পা দ কী য়

কৃষি গবেষণায় অক্টো-কপ্টার প্রযুক্তি

বাংলাদেশ জনবহুল ও কৃষি প্রধান একটি দেশ। প্রতি বছর একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে অন্যদিকে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে ফসলের আবাদ বাড়াতে হবে। আর এজন্য কৃষি বিজ্ঞানীদের কতইনা প্রানান্তকর প্রচেষ্টা । নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন, রোগ বালাই দমনের নয়া সব টেকসই প্রযুক্তি প্রদান। এর ফলে স্বাধীনতার পরে ফসলের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুনেরও বেশি। এতেও থেমে নেই দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা। আরো বাড়াতে হবে ফসলের উৎপাদন। তাই এবার দেশে প্রথমবারের মতো, কৃষি গবেষণায় ব্যবহার করা হচ্ছে অক্টো-কপ্টার।

গবেষকরা জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই ড্রোন, কৃষকদের ক্ষেত ও ফসল সম্পর্কে দ্রুত নির্ভুল তথ্য দেবে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ফসলের উৎপাদনও বাড়বে বহুগুণে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের সঙ্গে এই গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে নেদারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (ঈওগগণঞ)।

জানা যায়, ৮ পাখায় উড়ে বেড়ানো যন্ত্রটি ফসলের ক্ষেতের ছবি সংগ্রহ করে বিচার বিশ্লেষণ করবে। গাছের পাতায় সালোক সংশ্লেষণের পরিমাণ, রোগ বালাই, পানিতে লবণের পরিমাণ কিংবা সারের চাহিদা সবই নিরীক্ষণ করবে অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি। এ কপ্টার ১০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত যেকোনো উচ্চতা থেকে ফসলি জমির ছবি নিতে পারে। পরবর্তীতে সেগুলো কম্পিউটারে বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য কৃষকদের কাজে লাগানো যাবে। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর, জার্মানি থেকে কৃষি গবেষণার জন্য দু’টি আনম্যানড এরিয়েল ভেহিকেল বা অক্টোকপ্টার সংগ্রহ করে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এরপর, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র তত্ত্বাবধানে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর জৈন-কাঠী ও নীলগঞ্জে ফসলি জমিতে গবেষণা শুরুকরে। আমরা আশা করি, অক্টো-কপ্টার প্রযুক্তি দেশের কৃষি গবেষণায় নতুন এক যুগের সূচনা করবে। এর ফলে যেমন ফসলের বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধান করা যাবে তেমনি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ প্রযুক্তি অনন্য ভূমিকা পালন করবে।

২. আসছে বাংলা নববর্ষ ১৪২২ সাল। নতুন বর্ষ প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে নিয়ে আসুক প্রাপ্তির বারতা। মুছে যাক যত সব জরা ও গ্লানি। আমাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়িদের প্রতি কৃষিবার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে রইল ‘শুভ বাংলা নববর্ষ-১৪২২’।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare