স ম্পা দ কী য়

 

 

মাছ-মুরগির খাবারে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যে মাছ-মুরগি থাকে, তা আসে প্রধানত খামার থেকে। এসব খামারে ব্যবহৃত খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী কাঁচামাল হিসাবে ট্যানারি বর্জ মাছ-মুরগির খাবারে মেশায়। রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় ট্যানারি বর্জ্য ব্যবহার করে যে পোলট্রি ফিড তৈরি করা হচ্ছে তাতে রয়েছে ক্রোমিয়াম নামের এক জাতীয় ক্ষতিকর ভারী ধাতু। ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় ক্রোমিয়ামকে। বিষাক্ত পোলট্রি ফিডের বদৌলতে তা পৌঁছে যাচ্ছে মাছ ও মুরগির দেহে। সে মাছ ও মুরগি যারা খাচ্ছেন তাদের জন্য বাড়ছে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। লিভার ও কিডনি সংক্রান্ত রোগের হুমকিও বেড়ে যাচ্ছে।

 

সম্প্রতি রায়েরবাজারের একটি পোলট্রি ফিড কারখানায় হানা দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারা পোলট্রি ফিডের উপকরণ পরীক্ষা করে তার মধ্যে ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। র‌্যাব সদস্যরা কারখানার কয়েক হাজার বস্তা পোলট্রি ফিড জব্দ করে তা ধ্বংস করেন। রাজধানীর হাজারীবাগের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক পোলট্রি ফিড কারখানা। ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করা হয় এসব কারখানার পোলট্রি ফিড উৎপাদনে। দেশের অন্যান্য স্থানের পোলট্রি ফিড কারখানায় উৎপাদিত পণ্যে ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি দেখা না গেলেও এখানকার প্রায় প্রতিটি কারখানায় উৎপাদিত পোলট্রি ফিডে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পূর্ণ বয়স্ক মানবদেহে ক্রোমিয়ামের সহনীয় মাত্রা প্রতি কেজিতে ০.০৫-২ মিলিগ্রাম। বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্যে এর পরিমাণ থাকে প্রতি কেজিতে ১৪ হাজার মিলিগ্রাম। এ দিয়ে তৈরি পোলট্রি ফিডে তার পরিমাণ হয় প্রতি কেজিতে ৮ হাজার মিলিগ্রাম। গবেষকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত ক্রোমিয়াম মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ বিশেষত লিভার ও কিডনিতে জমা হয় এবং ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের উৎস হিসেবে কাজ করে। মাছ ও মুরগির মাধ্যমে তা মানবদেহে প্রবেশ করছে ও মানুষের জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তাছাড়া ট্যানারি বর্জ্যে রয়েছে লেড, ক্যাডমিয়াম, নিকেলের মতো ভারী ধাতু। এগুলোও খাদ্যচক্রের (ঋড়ড়ফ পযধরহ) মাধ্যমে মানুষের শরীরে জমতে থাকে। অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, বিষাক্ত এসব ভারী ধাতু যুক্ত ট্যানারি বর্জ্য মাছ-মুরগীর ফিডে ব্যবহার হলে,মুরগীর শরীরে যেমন এসব বিষাক্ত ধাতু জমা হয়। তেমনি মুরগীর বিষ্ঠা বা লিটারে ও এসব ভারী ধাতুর ব্যাপক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। মুরগীর বিষ্ঠা অনেকে জৈব সার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করেন। সেক্ষেত্রেও ক্ষতিকর এসব ভারী ধাতু মাটিতে জমা হয়। ঐ মাটিতে ফসল আবাদ করলে সেসব ফসলে  ঐসব বিষাক্ত পদার্থ চলে যেতে পারে।

এ হুমকি রোধে পোলট্রি ফিড তৈরিতে ট্যানারি বর্জ্য যাতে ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন কারখানায় তৈরি মাছ-মুরগির খাদ্য কতটা নিরাপদ, তা অবিলম্বে পরীক্ষা করে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। বিষাক্ত পোলট্রি ফিড উৎপাদকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। যাতে আইনের ফাঁক গলিয়ে এসব অপরাধিরা বেরিয়ে যেতে না পারে এটাই দেশবাসী কামনা করে।

 

প্রিয় পাঠক! আসছে বাংলা নববর্ষ -১৪২১ সাল। শুভ নববর্ষ উপলক্ষে আমাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়িদের প্রতি রইল আন্ত ন্তরিক শুভকামনা। অনাবিল আনন্দ আর নিরাপদে কাটুক সবার আগামির দিনগুলো এ কামনাই করছি।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare