হাওরে আকষ্মিক বন্যাঃ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি

সাম্প্রতিক প্রবল বৃষ্টি আর অকাল বন্যায় হাওর অঞ্চলের সাত জেলায় গড়ে ৭৫ ভাগ ফসল তলিয়ে গেছে। এতে ২২ লাখ টন ধান হারিয়েছেন হাওরের কৃষক। ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দুই হাজার টন মাছ এবং ৩০ হাজার হাঁস মারা গেছে। প্রায় এক হাজার টন সবজি নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।  মাঠ পর্যায়ের জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা।

হাওরের আকষ্মিক বন্যায় ফসলহানি, মাছের মড়ক, হাঁসের মৃত্যু, গবাদিপশু পালন জটিলতায় হাওর অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাঁচার তাগিদে হাওরের দরিদ্র কৃষকরা ভিটাবাড়ি ফেলে শহরমুখী হচ্ছেন। এতে ফসল, পশু, সম্পদ হারানোর ফলে হাওরে সামাজিক বিপর্যয় এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ গ্রামীণ ঐতিহ্য বিনষ্টের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অনেকে। ভবিষ্যতে কৃষি শ্রমিকের অভাব দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে শহরগুলোতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আগামী মাসগুলোতে সংকট গভীর থেকে গভীরতর হওয়ার আশংকা রয়েছে। বন্যায় ডিমসহ মা মাছ মারা গেছে। এতে আগামী কয়েক বছর মাছের সংকট দেখা দিতে পারে। এ জন্য আগামী কয়েক বছর এ অঞ্চলের বিল-হাওর গুলো ইজারা না দিয়ে প্রকৃত জেলেদের মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে।

অনেকেই বলছেন, ভারতের পাহাড়ি ঢলে এই অকাল বন্যা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে ঢলের আগাম তথ্য বাংলাদেশকে জানানোর কথা। কিন্তু ভারত তা জানায়নি তাই এ বিষয়ে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যেতে পারে। আমরা মনে করি হাওরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হলে সরকার ঘোষিত স্বল্পমূল্যে চাল-আটা বিতরণ কার্যক্রম আগামী ফসল তোলার আগ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে।  দুর্গম গ্রাম পর্যন্ত ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা পায় তা নিশ্চিত করা, হাওরের জলাশয়গুলো জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া, কৃষিঋণ ও এনজিওগুলোর ঋণ আদায় বন্ধ রাখা, নতুন করে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাছাড়া হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী খনন, কিছু কিছু জায়গায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ, বাঁধের মাঝখানে সৃষ্ট গর্ত আগেই বন্ধ করা, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম বন্ধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করা, ড্রেজার মেশিনে বাঁধের কাছ থেকে মাটি কাটা বন্ধ করা, বাঁধের কাজে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে হবে।

২. পহেলা মে আন্তর্জাতিক মে দিবস। আমাদের দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের অধিকার যাতে সুনিশ্চিত হয়, শ্রমিক যাতে ন্যায্য মূল্য পায় এটাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *